অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ফ্রান্স, চাপে বাংলাদেশিরাও

ফ্রান্সে বৈধতার দাবীতে অভিবাসীদের বিক্ষোভ- রয়টার্স
ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে কাগজপত্রহীন বা অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ওপর ফেরত পাঠানোর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভিসার শর্ত ভঙ্গ, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান এবং আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পরও অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে ফ্রান্স।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি, দ্বিতীয় অবস্থানে ফ্রান্স এবং তৃতীয় অবস্থানে সুইডেন।
তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ‘তৃতীয় দেশের নাগরিকদের’ মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত, যদিও আলাদা করে দেশভিত্তিক বাংলাদেশির সংখ্যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জনকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জনের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে সীমান্তে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা কমে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই কঠোর নীতির কারণে অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে। সবাইকে অভিবাসন আইন মেনে চলা, বৈধ কাগজপত্র নিয়মিত করা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে এখন দ্রুত প্রত্যাবাসন ও কঠোর আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অনিয়মিত অবস্থানকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে ভবিষ্যতেও।




