Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
সবুজ স্বপ্ন বুনছেন শাকির
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় ইউরোপ

ব্রিটেনে সালমোনেলায় মৃত্যু, আক্রান্ত ২০৭

  • রেস্তোরাঁর ডিমেই লুকিয়েছিল বিপদশিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ আক্রান্ত
  • ৩৮ শতাংশকে নিতে হয়েছে হাসপাতালে
  • লন্ডন ও ইয়র্কশায়ারে সংক্রমণ বেশি, তবে ব্রিটেনে উৎপাদিত ডিমে সংক্রমণের প্রমাণ নেই
ইরফান রহমান, লন্ডন থেকে
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৭
ব্রিটেনে সালমোনেলায় মৃত্যু, আক্রান্ত ২০৭

কোন দেশ থেকে আসা ডিম ব্রিটেনে সালমোনেলা সংক্রমণের উৎস, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

নিরীহ দর্শন ডিম থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে বিপদ। ব্রিটেনজুড়ে সালমোনেলা সংক্রমণে একজনের মৃত্যু এবং দুই শতাধিক মানুষের অসুস্থ হওয়ার পর এখন এই বিপদের কারণ খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তের আঙুল উঠেছে ব্রিটেনের বাইরে থেকে আমদানি করা ডিমের দিকে, যার বড় অংশ রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অন্যান্য খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ঠিক কোন দেশ থেকে আসা ডিম এই সংক্রমণের উৎস, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
মঙ্গলবার ব্রিটেনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসএ জানায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে ২০৭ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯৯ জন ইংল্যান্ডে, ছয়জন স্কটল্যান্ডে এবং ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বয়সের বিস্তারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে৷ এক বছরের কম বয়সী শিশু থেকে ৯০ বছর বয়সী মানুষও রয়েছেন তালিকায়।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে লন্ডনে, ৪৭ জন। এরপর রয়েছে ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বার অঞ্চল, সেখানে আক্রান্ত ৩৮ জন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেই নতুন রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জিনগত বিশ্লেষণে আক্রান্ত ২০৭ জনের সংক্রমণকে একই ধরনের সালমোনেলা জীবাণুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা একটি অভিন্ন বা ঘনিষ্ঠ উৎসের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।
হাসপাতালে যেতে হয়েছে ৩৮ শতাংশকে
সাধারণভাবে সালমোনেলা সংক্রমণ কয়েক দিনের মধ্যে সেরে গেলেও এবারের প্রাদুর্ভাবে অসুস্থতার মাত্রা উদ্বেগজনক। ইউকেএইচএসএর হিসাবে, আক্রান্তদের ৩৮ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। দুই রোগীর শরীরে জীবাণু রক্তে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী হতে পারে এমন ‘ব্লাডস্ট্রিম ইনফেকশন’ তৈরি করেছে। একজনের মৃত্যুও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা তার মৃত্যুর বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়নি।
সালমোনেলা সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়া বা ধরার মাধ্যমে ছড়ায়। পেটব্যথা বা পেট মোচড়ানো, ডায়রিয়া, বমি ও জ্বর এর পরিচিত উপসর্গ। সাধারণত জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিন্তু ছোট শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।
সন্দেহের কেন্দ্রে রেস্তোরাঁ-ক্যাফেতে ব্যবহৃত ডিম
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবারের ইতিহাস খতিয়ে দেখতে গিয়ে। ১১৪ জন আক্রান্তের সাক্ষাৎকার নিয়ে কর্মকর্তারা এমন পাঁচটি খাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছেন, যেখানে অসুস্থ হওয়ার আগের সপ্তাহে অন্তত দুজন করে স্বতন্ত্র আক্রান্ত ব্যক্তি গিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ২৪টি সংক্রমণের সঙ্গে ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি।
খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল খতিয়ে দেখে দেখা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক উৎস থেকে ডিম পেয়েছে, যার মধ্যে আমদানিকারকেরাও রয়েছেন। দুটি প্রতিষ্ঠানে রান্নাঘরের ভেতর এক খাবার থেকে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য ঘটনাও পাওয়া গেছে। ফলে কর্মকর্তারা এখন শুধু ডিমের উৎস নয়, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরে ব্যবহারের পুরো পথটিই খতিয়ে দেখছেন।
ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির ঘটনাবিষয়ক প্রধান জ্যাকলিন ম্যাককরমিক জানিয়েছেন, সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট উৎস এখনও শনাক্ত হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে ব্রিটেনের বাইরে থেকে আমদানি করা এবং মূলত রেস্তোরাঁ-ক্যাফেসহ খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ডিমের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
একটি বিষয় নিয়ে অবশ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ব্রিটেনে উৎপাদিত ডিম এই প্রাদুর্ভাবের উৎস এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে ব্রিটিশ মুরগির মাংসের সঙ্গেও বর্তমান সংক্রমণের যোগসূত্র শনাক্ত হয়নি।
গত বছরের সংক্রমণের সঙ্গেও মিল
তদন্তে আরও একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সালমোনেলা জীবাণুর ধরনটি ২০২৫ সালে আমদানি করা ডিমের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি সংক্রমণের জীবাণুর সঙ্গে জিনগতভাবে ঘনিষ্ঠ। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. সাফি রহমানের মতে, এটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নতুন ঘটনা নয়, আগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এর মধ্যেই ইংল্যান্ডে সালমোনেলা সংক্রমণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউকেএইচএসএর সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডে ১০ হাজার ৪০৬টি সালমোনেলা সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১০ হাজার ৩৮৯। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, আমদানি করা ডিমের পরিমাণও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে এবং আগেও আমদানি করা খাদ্যপণ্যের সঙ্গে কিছু সংক্রমণের ঘটনা যুক্ত হয়েছে, যদিও শুধু আমদানি বৃদ্ধিকেই ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রমাণ বলা যায় না।

কী করতে বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ
ইউকেএইচএসএর পরামর্শ, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং খাবার প্রস্তুত বা ধরার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। খাবার যথেষ্ট তাপে রান্না করতে হবে এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য একই ছুরি, কাটিং বোর্ড বা বাসন ব্যবহার করে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া এড়াতে হবে। ডায়রিয়া বা বমি হলে অন্যের জন্য খাবার তৈরি না করতেও বলা হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন ইউরোপের অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে ডিমগুলোর আসল উৎস এবং কোথায় দূষণ ঘটেছে, তা খুঁজছে। অর্থাৎ ২০৭ জন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনও অধরা, জীবাণুটি ঠিক কোথা থেকে এল?
একটি ডিমের খোলস দেখে ভেতরের বিপদ বোঝার উপায় নেই। ব্রিটেনে এবারের সালমোনেলা প্রাদুর্ভাব যেন সেই পুরোনো সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে মানুষের খাবারের প্লেট, খাদ্যশৃঙ্খলের কোথাও সামান্য একটি ফাঁকই শত শত মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এখন তাই নজর শুধু আক্রান্তের সংখ্যা আর হাসপাতালের শয্যায় নয়; যে ডিমের পথ ধরে জীবাণুটি ব্রিটেনে ঢুকল বলে সন্দেহ, তদন্তকারীরা সেই পথের শুরুটিই খুঁজছেন।

ব্রিটেনসালমোনেলাডিমসংক্রমণ
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise