যেসব বিষয়ে একমত হতে পারে বেইজিং-ওয়াশিংটন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সামরিক অভ্যর্থনা দিয়েছেন শিং জিনপিং। ছবি : এপি
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই পরাশক্তির এ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। এ বৈঠকের ফলাফলগুলো সম্ভবত সীমিত ও লেনদেনমূলক হবে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ নিক বিসলি।
বিসলি আল জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক কমানোই চীনের আগ্রহ। তারা বর্তমান শুল্কের হার মেনে নিতে পারে, কিন্তু গত দুই বছরের জটিলতার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। তারা সেটা করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি আশা করছেন, ওয়াশিংটন ক্রয় চুক্তিগুলোতেই প্রাধান্য দিবে। তার ভাষ্য, বেইজিং সম্ভবত আমেরিকান সয়াবিন কেনার ঘোষণা দেবে, যা ইরান যুদ্ধের চাপে থাকা মার্কিন কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হবে এবং বোয়িং বিমানের জন্যও অর্ডার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি প্রস্তাবিত যৌথ বাণিজ্য বোর্ড গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসলি। তিনি বলেছেন, এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে খুব বেশি কিছু অর্জিত হবে বলে কেউ আশা করে না।
তবে তিনি যোগ করেন, বাণিজ্য বোর্ড একটি উদ্দেশ্য পূরণ করবে, যা উভয় পক্ষকে সম্মানজনক একটি পারস্পরিক লেনদেনের সুযোগ করে দেবে। যা প্রত্যেকেই নিজ দেশে একটি বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
বিসলির সন্দেহ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে থাকা চীনা পণ্যের ওপর বর্তমানে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে হয় না।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে উদ্বোধনী ভাষণে উভয় দেশের শীর্ষ নেতাই ইতিবাচক আলোচনার আশা প্রকাশ করেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি শুরুর বক্তব্যে বলেছেন, তিনি বরাবরই বিশ্বাস করেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বিশ্বের জন্য একটি ভালো বিষয় এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধান প্রধান ইস্যুতে মতবিনিময়ের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
শি যোগ করেছেন, অতীতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার সুযোগ খুলার জন্য ২০২৬ সাল বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলক বছর হোক।
এদিকে, ওয়াশিংটন-চীন সম্পর্ক ‘আগের চেয়েও ভালো হতে চলেছে’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি শির সঙ্গে আলোচনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
চীনের নেতৃত্বকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারাটা সম্মানের। আপনাদের বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়েও ভালো হতে চলেছে।’




