বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে শীর্ষে চীন

স্পেনের বার্সেলোনায় অবস্থিত বার্সেলোনা সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে থাকা মারেনস্ট্রাম ৫ সুপারকম্পিউটারের পাশে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠেছে চীন। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটানকে পেছনে ফেলেছে চীনের লাইনশাইন। প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে বেইজিংয়ের জন্য।
এ তথ্য উঠে এসছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জার্মানির হামবুর্গে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ সুপারকম্পিউটারের সর্বশেষ তালিকায়।
চীনের শেনজেনে অবস্থিত ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত লাইনশাইন কর্মক্ষমতা অর্জন করেছে ২ দশমিক ১৯৮ এক্সাফ্লপস। অর্থাৎ এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নের বেশি গণনা সম্পন্ন করতে সক্ষম। সর্বশেষ শীর্ষ ৫০০ তালিকা অনুযায়ী, এর কর্মক্ষমতা এল ক্যাপিটানের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
২০১৭ সালে চীনের সানওয়ে তাইহুলাইট শীর্ষ স্থান অর্জনের পর এবারই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার আবারও বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের তালিকায় উঠল এক নম্বরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির এল ক্যাপিটান ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ছিল শীর্ষ অবস্থানে। সর্বশেষ তালিকায় এটি নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘ফ্রন্টিয়ার’। এর পরের দুটি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অরোরা’ ও জার্মানির ‘জুপিটার’।
শীর্ষ ২০-এর তালিকায় আরও রয়েছে যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের সুপারকম্পিউটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইনশাইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণভাবে সাধারণ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) দিয়ে পরিচালিত। বর্তমানে অধিকাংশ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল পরিচালনায় গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ব্যবহৃত হয়।
শীর্ষ ৫০০-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু সিপিইউভিত্তিক নকশায় ২ এক্সাফ্লপসের বেশি কর্মক্ষমতা অর্জনকারী এটিই বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র সুপারকম্পিউটার।
বিশ্বের শীর্ষ সুপারকম্পিউটারগুলোর এই শীর্ষ ৫০০ তালিকা ১৯৯৩ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বছরে দুবার। কম্পিউটার বিজ্ঞানী এরিখ স্ট্রোমাইয়ার ও হান্স মেয়ার প্রথম প্রণয়ন করেন এ তালিকা।
তালিকাটি লিনপ্যাক বেঞ্চমার্কের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে সুপারকম্পিউটারের কর্মক্ষমতা। এটি জটিল গাণিতিক সমীকরণ সমাধানে একটি কম্পিউটার কত দ্রুত কাজ করতে পারে, তা পরিমাপ করে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই র্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্ব আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ বর্তমানে এআই উন্নয়নের অগ্রভাগে রয়েছে মাইক্রোসফট, অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান, অথচ শীর্ষ ৫০০ তালিকায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রকল্পই সরকারি বা একাডেমিক উদ্যোগ।
এদিকে প্রযুক্তিগত আধিপত্য নিয়ে আরও তীব্র হচ্ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা ও চালু করেছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এআই ইনডেক্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সক্ষমতার ক্ষেত্রে চীন কার্যত ব্যবধান কমিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নতমানের এআই মডেল তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এগিয়ে থাকলেও পেটেন্ট নিবন্ধন এবং শিল্পকারখানায় রোবট স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চীন।
সূত্র: আলজাজিরা





