কার্ড দেখার পর নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে বিপাকে নেইমার

বেফাঁস মন্তব্য করায় শাস্তি হতে পারে নেইমারের। ছবি: সংগৃহীত
মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে খবরের শিরোনাম হওয়ার চেয়ে বিতর্ক তৈরি করে আলোচনায় থাকাটাই যেন নেইমারের নিয়তি। রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের ২-০ ব্যবধানের জয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। কিন্তু ম্যাচ শেষে তার পারফর্মেন্স ছাপিয়ে আলোচনায় চলে এসেছে নতুন বিতর্ক। রেফারির সমালোচনা করতে গিয়ে ‘নারীবিদ্বেষী’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভিলা বেলমিরোতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৮৫ মিনিটে দিয়েগো হার্নান্দেজের এক কড়া ট্যাকলের শিকার হন নেইমার। পেইনকিলার নিয়ে খেলা নেইমার ব্যথায় কুঁকড়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টো তাকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও। ম্যাচ শেষে রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়েই তিনি গড়বড় করে ফেলেন।
শুরুতে ব্রাজিলিয়ান তারকার অভিযোগ ছিল গৎবাঁধা- রেফারি নাকি খেলোয়াড়দের সম্মান দেন না এবং নিজেকে ম্যাচের নায়ক বানাতে চান। নেইমার ভাষায়, ‘সে নিজেই স্টার হতে চায়... খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো সম্মান নেই, কথা বলতে চায় না। আমি প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম আর আমাকেই কার্ড দেখানো হলো। সাভিও (রেফারি) সবসময় এমনটাই করেন।’
নেইমারের বক্তব্য এটুকু পর্যন্ত ঠিকই ছিল। বিতর্কের সূত্রপাত হয় এরপরই। ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এমন একটি পর্তুগিজ শব্দ ব্যবহার করেন, যা ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতিতে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নিয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, নেইমার সরাসরিই বলে বসেন যে- রেফারি হয়তো তার ‘পিরিয়ড’ বা ঋতুস্রাব চলাকালীন মেজাজে আছেন!
একজন পুরুষ রেফারির মেজাজ বোঝাতে গিয়ে নারীর শারীরিক অবস্থাকে উপহাস বা অপমান হিসেবে ব্যবহার করাটাকে ভালোভাবে নেয়নি ফুটবল বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ফুটবলের এই যুগে একজন বিশ্বখ্যাত তারকার কাছ থেকে এমন লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারকে ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে বারবার চোট আর ক্লাব পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা দিনে দিনে কমে আসছে। এমন মুহূর্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তার ভাবমূর্তিকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করল। বিশেষ করে ব্রাজিলে নেইমারের প্রভাব অপরিসীম, সেখানে এমন মন্তব্য তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
‘মার্কা’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি নেইমার। এমনকি ক্লাব কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে নীরব। ব্রাজিলের ফুটবল মহলে গুঞ্জন চলছে যে, লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নীতিমালার অধীনে নেইমারকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

