মেক্সিকো সমর্থকদের উৎপাত এড়াতে ইংল্যান্ডের অভিনব কৌশল

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আগামী রবিবার স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরের এক অন্যরকম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে দুই দলের। মেক্সিকোর উগ্র সমর্থকদের উৎপাত থেকে হ্যারি কেইন-জ্যুড বেলিংহামদের রাতের ঘুম ও বিশ্রাম বাঁচাতে এবার এক অভিনব গোপন মিশনে নেমেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
রাউন্ড অব বত্রিশে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে বিদায় করে মেক্সিকোর টিকিট কেটেছে থ্রি লায়ন্সরা। শুক্রবারই মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে টুখেলের শিষ্যদের। ম্যাচের আগে সেখানে তারা কাটাবেন দুটি রাত। আর এই দুই রাতেই ইংলিশদের ‘ঘুম হারাম’ করে দেওয়ার মিশনে নামবে মেক্সিকান সমর্থকেরা, যা নিয়ে বেশ চিন্তিত ইংলিশ টিম ম্যানেজমেন্ট।
ইংল্যান্ডের এই বাড়তি সতর্কতার পেছনে রয়েছে ইকুয়েডরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। শেষ বত্রিশের ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে ইকুয়েডর দল মেক্সিকো সিটির ওয়েস্টিন হোটেলে অবস্থান করছিল। অভিযোগ ওঠে, ম্যাচের আগের রাতে ইকুয়েডর দলের ঘুম নষ্ট করতে হোটেলের সামনে লাউডস্পিকার, ভুভুজেলা হর্ন এবং গভীর রাতে বিকট শব্দে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয় মেক্সিকান সমর্থকরা। এই বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দিয়েছে ইকুয়েডর।
মেক্সিকানদের এমন কাণ্ড থেকে বাঁচতে ইংল্যান্ড দল তাদের হোটেলের নাম ও অবস্থান সম্পূর্ণ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে হোটেলের অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যে সব ইংলিশ ফুটবলার ও স্টাফ নিজেদের সঙ্গে ইয়ার প্লাগ বা স্লিপ ব্যান্ড আনেননি, তাদের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে হোয়াইট নয়েজ অডিও মেশিন (যা বাইরের শব্দকে আড়াল করে) এবং প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এতদিন গ্রুপ পর্ব ও শেষ বত্রিশের ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ড সাধারণত ম্যাচের আগের রাতে ভেন্যু শহরে পৌঁছাত। তার আগে তারা কানসাসের বেস ক্যাম্পেই অনুশীলন সারত। কিন্তু ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ১৬ থেকে ম্যাচের আগের দিন ভেন্যু শহরেই সংবাদমাধ্যম ও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত অনুশীলনের নিয়ম রয়েছে। বাধ্য হয়েই তাই কানসাস ছেড়ে শুক্রবারই মেক্সিকোর বিমান ধরছে টুখেল বাহিনী।
তবে মেক্সিকান সমর্থকদের গোলমালের চেয়েও থমাস টুখেলকে বেশি ভাবাচ্ছে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই শহরের গড় উচ্চতা প্রায় ২,২৪০ মিটার (প্রায় ৭,৩৫০ ফুট)। এত উঁচুতে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় ভিনদেশি ফুটবলারদের জন্য ৯০ মিনিট দম ধরে রাখা প্রচণ্ড কঠিন। অন্যদিকে মেক্সিকো তাদের আগের চারটি ম্যাচের তিনটিই খেলেছে এই উচ্চতার অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এবং অন্যটি খেলেছে গুয়াদালাহারায় (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৫৬৬ মিটার উঁচুতে)। ফলে কন্ডিশনের সুবিধা তারা শতভাগ পাবে।
সাধারণত এই ধরনের উচ্চতায় খাপ খাইয়ে নিতে অ্যাথলেটদের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইংল্যান্ড সময় পাচ্ছে মাত্র তিন দিন।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিকূলতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল। তিনি বলেন, “উচ্চতা আমাদের জন্য একটা বিরাট অসুবিধা হতে যাচ্ছে, কারণ মাত্র চার দিনে শারীরিকভাবে এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব। মেক্সিকো এখানে বিশাল সুবিধা পাবে। তবে আমরা জানতাম এমন পরিস্থিতি আসবে। এর বাইরেও আরও বাধা আসতে পারে, তবে ছেলেরা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে মানসিকভাবে প্রস্তুত।”




