ভিনিসিয়ুস
আমার সাত বছরের ভাই যেন বর্ণবাদের শিকার না হয়

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে প্রতি ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আজ থেকে নকআউটের মঞ্চে শুরু হবে আসল লড়াই। এর আগে ভিনিসিউস জুনিয়র আলোটা কেড়ে নিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জায়গায়। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘দোমিঙ্গাও কম হাক’-এ এসে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা সাফ জানিয়ে দিলেন, মাঠের ফুটবলে ট্রফি জেতার চেয়েও বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়াটা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে শৈশবের অতিদরিদ্র দিনগুলো এবং নানী নিলজার ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভিনি। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘তিনি (নানী) আমার জীবনের খুব বিশেষ একজন মানুষ। আমার বাবা সবসময় দূরে থাকতেন, তাই মা আর ভাইবোনদের নিয়ে আমি নানীর কাছেই বড় হয়েছি। আমাদের বাড়িটা খুব ছোট ছিল। বেশিরভাগ দিন আমি নানীর সঙ্গেই ঘুমিয়েছি। আজ তারা আমার স্বপ্ন সত্যি করতে সবকিছু করেছেন। নানীকে হাসতে দেখা আমার কাছে অনেক দামী।’
ফুটবল মাঠে ভিনিসিয়ুসের ওপর প্রায়ই বর্ণবাদী আক্রমণ হতে দেখা যায়। সবসময় এই ব্রাজিলিয়ান তারকা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তার দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলস্বরূপ ফুটবলে যুক্ত হয়েছে ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নতুন নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে অন্য খেলোয়াড়কে অপমান বা আপত্তিকর মন্তব্য করলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হবে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেই তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন এই নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখেন।
নিজের এই সামাজিক আন্দোলন নিয়ে ভিনিসিউস বলেন, ‘এই অর্জনগুলো আমার কাছে মাঠের যেকোনো ট্রফির চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান। কারণ এর মাধ্যমে আমি লাখো মানুষকে সাহায্য করতে পারছি। ফুটবলে পরিবর্তন হয়তো ধীরগতিতে আসছে, কিন্তু আমি চাই এই ধারা বজায় থাকুক যাতে পরবর্তী প্রজন্মকে এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে না হয়। আমার সাত বছরের একটি ছোট ভাই আছে; আমি চাই না সে বড় হয়ে গায়ের রঙের কারণে বর্ণবাদের শিকার হোক। আমি মাঠে দারুণ কিছু করতে চাই, কিন্তু একই সঙ্গে সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের কণ্ঠস্বর হতে চাই, যাদের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’
চলতি বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে ৪ গোল করে ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের মূল স্বপ্নসারথি এখন ভিনিসিউস। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ট্রফি না পাওয়ার খরা কাটাতে মুখিয়ে আছেন তিনি। তবে ভিনির এই সাক্ষাৎকার মনে করিয়ে দিল, তিনি শুধু মাঠের সবুজ ঘাসেই রাজত্ব করছেন না, বরং সমাজের অন্ধকার দূর করতে এক আপসহীন যোদ্ধা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।






