জাপানের ‘যম’ নেইমার খেলবেন কতক্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আজ এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের আগে বারবার আলোচনায় আসছে গত বছর দুই দলের প্রীতি ম্যাচের ফল। টোকিওতে গত অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে জাপানের ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দলকে। আট মাস পর আবারও মুখোমুখি দুই দল। তা আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শেষ হয়ে যাবে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন। সেই হার যেমন চোখ রাঙাচ্ছে আবার আনচেলত্তির এই দলে নেইমার আছেন বলেই নিশ্চিন্তে সেলেসাও সমর্থকরা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্রাজিল মহাতারকা জাপানকে যখনই সামনে পেয়েছে, তখনই যমদূতের রূপ ধারণ করেছেন। প্রিয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচ খেলে করেছেন ৯ গোল। ১২৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে জাপানের মতো প্রিয় প্রতিপক্ষ আর কেউ নেই নেইমারের। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অল্প সময়ের জন্য নেমেছিলেন নেইমার। প্রায় ১ হাজার দিনের অপেক্ষার ইতি টেনে মাঠে এসে হয়তো গোল পাননি ৩৪ বছর বয়সী নেইমার, তবে ম্যাচ শেষে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন।
সেই সঙ্গে বুঝিয়েছিলেন বিশ্বকাপের বাকি সময়ের জন্য প্রস্তুত ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড। নিজেকে সেরা রূপে ফেরানোর অপেক্ষার হয়তো আজই অবসান ঘটাতে পারেন। প্রতিপক্ষ জাপান বলেই নেইমারকে ঘিরে প্রত্যাশাটা আজ আকাশছোঁয়া।
তবে ঠিক কখন তিনি প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামবেন, কতক্ষণ খেলবেন— এই প্রশ্নগুলোর জবাব মেলেনি কোচ আনচেলত্তির কাছ থেকে। শুরুর একাদশে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অনেকেরই আশা, দ্বিতীয়ার্ধে হয়তো দেখা যাবে তাকে।
পরিসংখ্যানেই বোঝা যায় কেন জাপান নেইমারের প্রিয় প্রতিপক্ষ। পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই গোল পেয়েছেন। ২০১২ সালে প্রথম সাক্ষাতেই করেন জোড়া গোল। পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে। কাকাকে দিয়ে একটা গোলও করিয়েছিলেন নেইমার। এর পরের বছর ফিফা কনফেডারেশনস কাপে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে ছিল এক গোল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে অবিশ্বাস্য গোল করেছিলেন নেইমার। ২০২০ সালে এক জরিপে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল গোলটি।
জাপানের বিপক্ষে নেইমারের তর্কাতীত সেরা পারফরম্যান্সটি ছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। সিঙ্গাপুরে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এ দুই দেশ, ব্রাজিল জিতেছিল তৎকালীন বার্সেলোনা তারকা নেইমারের একার করা ৪-০ গোলে। এমন কীর্তি গড়ার প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেছিলেন, ‘শুধু এই ভাবনাটুকুই আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। এক অসাধারণ অনুভূতি। এমন কিছু অর্জন করাকে চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো কিছুই অনুভূত হচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে এই উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা আমি স্বপ্নেও কখনো কল্পনা করিনি। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’ ২০০০ সালে রোমারিওর পর এটিই ছিল কোনো ব্রাজিলিয়ানের এক ম্যাচে প্রথম চার গোল করার কীর্তি। তৎকালীন ব্রাজিল কোচ দুঙ্গা নেইমারের সৃজনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘সে সর্বোচ্চ স্তরে খেলাটা উপভোগ করে। তার কাছে এটা মনে হয় যেন বন্ধুদের সঙ্গে মনের আনন্দে ফুটবল খেলছে।’
এরপর ২০১৭ সালে ফ্রান্সে প্রীতি ম্যাচে এক গোল করার পর সর্বশেষ ২০২২ সালে টোকিওতে তার গোলেই ব্রাজিল হারায় জাপানকে। জাপানের বিপক্ষে তার খেলা পাঁচ ম্যাচের সবকটিই জিতেছে ব্রাজিল। ১৫ গোলের বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি।
আজ যদি তিনি খেলার সুযোগ পান, নিশ্চয়ই চাইবেন জাপানের পোস্ট আবারও খুঁজে নিতে। একবার নয় বারবার। সেই পোস্ট যে ভীষণ প্রিয় নেইমারের। আনচেলত্তি সেই সুযোগটা দিলেই হয়। ভক্তরাও আরেকবার ‘যমদূত রূপে’ নেইমারকে দেখার অপেক্ষায়।







