মৃত্যুশোক বুকে নিয়ে গাকপোর গোল, তবু শেষ রক্ষা হলো না

মাত্র দুদিন আগে জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে অনাগত পুত্রসন্তান। এমন বুকভাঙা কষ্ট আর শোক আড়াল করে দেশের জন্য মাঠে নেমেছিলেন নেদারল্যান্ডস তারকা কোডি গাকপো। শুধু মাঠেই নামেননি, মরক্কোর বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়েও নিয়েছিলেন। গোল করার পর অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়তো খুঁজেছিলেন তার প্রয়াত সন্তানকে। তবে গাকপোর এই মহাকাব্যিক ও আবেগঘন রাতে শেষ রক্ষা হয়নি নেদারল্যান্ডসের।
টাইব্রেকারে হেরে ডাচরা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, গাকপোর এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক আবেগময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। সোমবার রাতে মরক্কোর বিপক্ষে রাউন্ড অব থার্টিটু-র (৩২ দলের পর্ব) ম্যাচে যখন মাঠে নামেন ২৭ বছর বয়সী গাকপো, তখন তার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মানসিক ঝড়। গত শনিবার গাকপো ও তার সঙ্গী নোয়া ফন ডার বিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, তাদের অনাগত পুত্রসন্তান মারা গেছে। আগামী অক্টোবরে তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। এই চরম শোকের মধ্যেও দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে ম্যাচের ৭২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে লিড এনে দেন এই লিভারপুল ফরোয়ার্ড। ডি-বক্সের প্রান্তে মরক্কোর গোলরক্ষক বোনোর বাধা এড়িয়ে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান গাকপো। গোলটি করার পরপরই সতীর্থরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। সে সময় গাকপোকে তার চোখের জল ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য ডিফেন্ডার ইসা দিওপের গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর খেলা অতিরিক্ত সময় পার করে টাইব্রেকারে গড়ালে জয় ছিনিয়ে নেয় আফ্রিকান জায়ান্টরা। এর আগে শনিবার এক আবেগঘন পোস্টে গাকপোর সঙ্গী নোয়া ফন ডার বিজ লিখেছিলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এলাইজে রাফায়েল গাকপো। চিরদিন আমাদের ভালোবাসায় থাকবে, চিরদিন তুমি আমাদের সন্তান।’ সন্তানের মৃত্যুর পর গির্জায় গিয়ে মোমবাতি জ্বালানোর এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘সেখানে একটিমাত্র শিশু খেলছিল, যার নাম ছিল এলাইজাহ। ঈশ্বরের কাছ থেকে এর চেয়ে সুন্দর কোনো সংকেত হতে পারত না। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দিলেন, আমাদের ছোট ছেলেটি আমাদের থেকে দূরে নেই।’ অন্যদিকে গাকপো এক পোস্টে এই কঠিন সময়ে পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন গাকপো। মরক্কোর বিপক্ষের গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২৪তম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে ষষ্ঠ গোল। নেদারল্যান্ডসের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা জনি রেপের (৭ গোল) রেকর্ড ছোঁয়া থেকে মাত্র এক গোল দূরে থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো গাকপোকে। দল বিদায় নিলেও, গাকপোর এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরের গল্প কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে আজীবন দাগ কেটে থাকবে।






