দুর্বল ডিফেন্স আর ম্যানুয়েল নয়্যারেই জার্মানির ভরাডুবি

সংগৃহীত ছবি
আক্রমণভাগে ছিল চেনা ধার, কিন্তু রক্ষণভাগের বেসামাল পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এসে হোঁচট খেল জার্মানি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। লেরয় সানের গোলে ম্যাচের শুরুতেই জার্মানি এগিয়ে গেলেও রক্ষণের একের পর এক ভুলে দুই গোল হজম করে বসে তারা। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন অবসর ভেঙে ফেরা গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার।
এই হারের পরও অবশ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্বে পা রাখছে জার্মানরা, তবে শেষ ম্যাচের এই তেতো স্বাদ নকআউটের মহাযুদ্ধের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে নাগেলসম্যান বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। কিমিচকে তুলে নিয়ে মালিক থিয়াওকে নামিয়ে তিন ডিফেন্ডার দিয়ে রক্ষণ সাজান কোচ। গ্যালারির এক জার্মান সমর্থকের মতে, ম্যাচটিকে তখন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ বলে মনে হচ্ছিল।
গ্যালারি থেকে বরাবরের মতোই ডেনিজ উন্দাভের জন্য স্লোগান উঠলে নাগেলসম্যান স্টুটগার্ট স্ট্রাইকারকে মাঠে নামান, কিন্তু আগের দুই ম্যাচে বদলি নেমে ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করা উন্দাভ এবার আর কোনো অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারেননি। ইকুয়েডরের জয়সূচক গোলটি হয়েছিল জার্মানির রক্ষণাত্মক ভুলে। উইঙ্গার গনজালো প্লাতা যখন আলতো টোকায় বলটি জালে জড়াচ্ছিলেন, গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার তখন বুঝতেই পারেননি তার হাত থেকে বলটি কীভাবে ফসকে গেল।
চোট কাটিয়ে ফেরা নয়ারের জন্য কামব্যাকটা বেশ অম্লমধুরই হচ্ছে। নিলসন আঙ্গুলোর প্রথম বুলেট গতির শটটিতে তার কিছু করার না থাকলেও, দ্বিতীয় গোলটিতে তার প্রতিক্রিয়ার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩টি শট অন-টার্গেট রেখেই ২টি গোল আদায় করে নেয় ইকুয়েডর। এই হার এখন জার্মানিকে অনেকগুলো প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল। ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত কি ভুল ছিল? এই দলটি কি আসলে ততটা শক্তিশালী নয়, যতটা দুই সপ্তাহ আগে ভাবা হয়েছিল? নকআউটে প্যারাগুয়ে বা অস্ট্রেলিয়া কি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
প্রশ্ন অনেক, তবে নাগেলসম্যান এখন শুধুই সময় চান। ম্যাচ শেষে জার্মান বস বলেন, ‘হার কখনোই ভালো কিছু নয়, এমনকি যখন গ্রুপ সেরা হওয়া নিশ্চিত থাকে তখনও। আমরা আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধৈর্য। যখন আমরা এত ভালো শুরু করি, তখন আমাদের আরও বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে। একবার এগিয়ে গেলে কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের আরও শান্ত থাকা উচিত।’
জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচও ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের মানসিকতা চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছেন, ‘আমরা বল হারিয়ে বারবার প্রতিপক্ষকে আক্রমণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যা ওদের শক্তিশালী করছে। ভাগ্যিস এই হারে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি (গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া)। তবে নকআউটে আমরা আর কোনো ভুল করা যাবে না। প্রতি ম্যাচে এক বা দুটি গোল হজম করা আমাদের বন্ধ করতে হবে।’






