নকআউটে উঠে আইভরি কোস্টের ইতিহাস

সংগৃহীত ছবি
দিদিয়ের দ্রগবা পারেননি, পারেননি ইয়াইয়া তুরে কিংবন কলো তুরেও। আইভরি কোস্ট ফুটবলের সেই সোনালী প্রজন্ম যা পারেনি, ২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আর আক্ষেপ ঘুচিয়ে সেই অসাধ্য সাধন করল লেস এলিফেন্টসদের নতুন প্রজন্ম। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট।
ম্যাচে আইভরি কোস্টের জয়ের নায়ক নিকোলাস পেপে। জোড়া গোল করে দলকে যেমন জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন, তেমনই নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে আরুনা দিনদানের পর প্রথম আইভরিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপে জোড়া গোল করার কীর্তি গড়লেন পেপে।
২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছিল আইভরি কোস্ট। কিন্তু কোনোবারই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো পরাশক্তিদের সাথে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়ে প্রথম দুই ম্যাচ হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। শেষ ম্যাচে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে সান্ত্বনার জয় পেলেও তা কেবল আক্ষেপই বাড়ায়।
২০১০ বিশ্বকাপে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পর্তুগাল ও ব্রাজিলের সাথে কঠিন গ্রুপে পড়েছিল আইভরি কোস্ট। পর্তুগালকে রুখে দিয়ে এবং উত্তর কোরিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়েও পরের রাউন্ডে যাওয়া হয়নি। ২০১৪ বিশ্বকাপে আইভরিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি মঞ্চস্থ হয়েছিল ব্রাজিলের মাটিতে। গ্রিসের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত—এমন সমীকরণে খেলা যখন প্রায় শেষ, ঠিক ৯৩তম মিনিটে গোল হজম করে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় দ্রগবার দল।
গত দুটি বিশ্বকাপে তো তারা মূল পর্বেও পা রাখতে পারেনি। ফলে একরাশ মানসিক চাপ আর গ্রুপ পর্বের ‘জুজু’ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল এই বর্তমান দলকে। অতীতের আইভরি কোস্ট দলে দ্রগবা, তুরের মতো বিশ্বকাঁপানো মহাতারকা থাকলেও বর্তমান দলে তেমন বড় কোনো নাম নেই। তবে গত তিন বছরে এই দলটি বিশ্বকে দেখিয়েছে তাদের অদম্য মানসিক শক্তি আর লড়াকু মনোভাব।
২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) কথাই ধরা যাক—গ্রুপ পর্বের মাঝপথে কোচকে বরখাস্ত করেও টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ট্রফি জিতেছিল তারা। সেই আফকন জয়ের রূপকার এবং বর্তমান কোচ এমার্স ফায়ে এই তরুণ দলটিকে দারুণ সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলেছেন। খেলোয়াড়দের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে কৌশলগতভাবে তাদের সেরাটা বের করে নিচ্ছেন তিনি।
অবশেষে আইভরি কোস্টের সেই দীর্ঘদিনের বন্ধ দুয়ার খুলেছে। দ্রগবাদের সোনালী প্রজন্মের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করে দেশের মানুষকে এক বিশাল উৎসবের উপলক্ষ এনে দিল এই নতুন প্রজন্ম।




