চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম কি বাফুফের হচ্ছে

বারবার নাম পরিবর্তন হয়েছে স্টেডিয়ামটির। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানের প্রশাসনের বড় কর্তার নামে নিয়াজ স্টেডিয়াম। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজের নামে ছিল কাজীর দেউড়ির এ স্টেডিয়াম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার নতুন নামে আবির্ভূত হয় চট্টগ্রামের একসময়কার একমাত্র বড় খেলার মাঠটি। নতুন নাম চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম।
নামের খেলা আপাতত শেষ। এখন শুরু হয়েছে মালিকানা নিয়ে নতুন সংকট। সংকট ঠিক না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) তত্ত্বাবধানে যাচ্ছে স্টেডিয়ামটি— এমন আলাপ শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই। গত বছরের প্রথম দিনে ঘোষণাটি আসে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে ২৫ বছরের জন্য মাঠ চায় বাফুফে।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) মাথায় হাত। এ মাঠ ঘিরে সিজেকেএস বছরে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, হ্যান্ডবলসহ ৩০টির মতো বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করে। এসবের ঠিকানা কোথায়! প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়রা। পরে কোনোরকম সে যাত্রায় রক্ষা পায়।
কিন্তু শেষরক্ষা কি হলো? এখনো প্রক্রিয়া চলছে বাফুফেকে মাঠটি দিয়ে দেওয়ার। বাফুফে মাঠ নিলে কি এখানে অন্য খেলা হবে! কীভাবে সম্ভব? বাফুফের অনুমতি সাপেক্ষে কিছু খেলা হবে এমন শর্তে মাঠটি হস্তান্তরের একটা চেষ্টা অব্যাহত আছে, এমনই আভাস জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা বিভাগের।
এনএসসির সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম যা বললেন তা এমনই, ‘কিছু শর্তসাপেক্ষে বাফুফেকে চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম হস্তান্তর করার কথা। এপ্রিল মাসে বাফুফেকে চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়াও সিলেট এবং কমলাপুর স্টেডিয়াম ২৫ বছরের জন্য বাফুফেকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বাফুফে এখনো কিছু জানায়নি।’
কিন্তু ফুটবল মাঠে ক্রিকেট কীভাবে হবে? কাজীর দেউড়ির এ স্টেডিয়ামে এখন আছে ক্রিকেট পিচ। তা তুলে ফেলা হবে। তখন জেলা ক্রিকেটের ঠিকানা হবে সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বা পাশের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে।
তা না হয় হলো, ফুটবলসহ চট্টগ্রামের বাকি খেলাধুলাও হবে বাফুফের অনুমতিতে। কিন্তু সিজেকেএসের পরিচালনাধীন স্টেডিয়াম ঘিরে যে কিছু বাণিজ্যকেন্দ্র রয়েছে, তার কী হবে? ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তো সিজেকেএস কমিটি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। বছরের খেলাধুলা চালানো এবং কর্মীদের বেতন-বোনাসের বিশাল অঙ্ক সেখান থেকেই আসছে। এটি তাদেরই থাকবে তো?
এসব প্রশ্নের জবাব কারও কাছে নেই আপাতত। এমনকি বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান তুষারও জানেন না কবে নাগাদ মাঠ পাবেন, ‘আমাদের স্টেডিয়ামটি দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনো যেহেতু এনএসসির কাছ থেকে বুঝে পাইনি, কিছু বলতে পারছি না। বুঝে পেলে চুক্তিতে কী কী আমাদের অধীনে থাকবে, কী থাকবে না, তা বলতে পারতাম।’
কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য স্টেডিয়ামটি চায় বাফুফে। এতে করে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার কাছ থেকে বড় অঙ্কের তহবিল পাওয়া যাবে ফুটবল উন্নয়নে। তুষার বলছিলেন, ‘কমপক্ষে ২০ বছর না হলে ফিফা ফান্ডিং করে না। কত পাব সেটি মাঠ দখলে আসার পর বলতে পারব।’
তবে সিজেকেএস কি এত সহজে মাঠ ছাড়তে চাইবে? ফের এরকম সিদ্ধান্ত এলে আবারও আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান। বললেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের লোকজন এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলে গেছেন— মাঠ নেবেন না। এখন আবার নতুন নাটক। আমরা তো বসে থাকব না। এবারের কাউন্সিলর হিসেবে বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতা সিজেকেএসের নতুনভাবে কাউন্সিলর হয়েছেন। তাদেরও দায়িত্ব এটি রক্ষা করা।’
আসলেই রক্ষা হবে?






