সাফল্যই হয়তো বাঁচিয়ে রাখবে কিংসকে

সংগৃহীত ছবি
তিন শিরোপার দুটি জেতা হয়ে গেছে। হাতছানি ট্রেবল জয়ের। ১৯ মে ঘরের মাঠে ফেড কাপ ফাইনালে মোহামেডানকে হারালেই সাফল্যের চূড়ায় উঠবে। সাফল্যেই শুচি হবে বসুন্ধরা কিংস।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ক্লাবটি ধুঁকছে দুই মৌসুম ধরে। শিরোপার নায়ক যারা, সেই খেলোয়াড়-কোচদের বেতন বকেয়া পড়েছে অনেক। বেতন না পেয়ে ক্লাব ছাড়া বিদেশি কোচ-খেলোয়াড়রা একের পর এক নালিশ করেছেন ফিফার কাছে। তাতে নেমে এসেছে একের পর এক ট্রান্সফার ব্যান। পাওনা পরিশোধ না করলে আসছে মৌসুমে দলবদলের সুযোগ পাবে না, যা বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে ফুটবলার ও কোচদেরও। এমনকি দলটিকেও।
গতকাল শুক্রবার কুমিল্লায় আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে জেতা লিগ শিরোপা জাদুর কাঠিতে রূপ নেবে— এটাই আশা ফুটবলারদের। তাদের ত্যাগের ফসল এই শিরোপা। এতেই ক্লাব মালিকরা নড়েচড়ে বসবেন এবং দ্রুততম ব্যবস্থায় মিলবে ফিফার দায়মুক্তি, খুলবে দলবদলের দরজা।
প্রতিদানের অপেক্ষায় শিরোপাজয়ের নায়করা
ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রাফায়েল আগুস্তো লিগের বিরতির পর আর ফেরেননি। অভিমানে দল ছেড়েছেন তারেক কাজী, কিউবা মিচেলরা। বেতন না পেয়ে লিগের শেষ কয়েক ম্যাচ বয়কট করেছেন দুই নাইজেরিয়ান ইমান্যুয়েল সানডে ও ইমান্যুয়েল টনি। কার্ড নিষেধাজ্ঞায় এই ম্যাচে ছিলেন না রাকিব, রিমনের মতো নিয়মিতরা। তারপরও ঠিকই কাঙ্ক্ষিত জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা। গোল করে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সোহেল রানা তাই ভীষণ খুশি, ‘আমাদের অনেক মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসব ফিফটি-ফিফটি ম্যাচ। এ রকম ম্যাচে যারা মানসিকভাবে শক্ত থাকবে, তারাই আধিপত্য করে। আবাহনী এত দিন পেশাদার লিগে ছয় শিরোপায় সবার ওপরে ছিল। তাদের হারিয়েই আমরা এখন তাদের পাশে।’
সাফল্যই সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেবে বিশ্বাস সোহেলের, ‘আমরা খেলাধুলা করি টাকার জন্য। তবে পেশাদারত্বের একটা ব্যাপার আছে। এটি (বেতন না পেয়ে না খেলা) বিদেশিরা পারবেন, আমরা (দেশীয় খেলোয়াড়) পারব না। তা ছাড়া ক্লাব আমাদের অনেক সমর্থন দিয়েছে একটা সময়। হয়তো কিছুদিনের জন্য একটু সমস্যা হয়েছে। এই সাফল্যের পর আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
কোচদের চ্যালেঞ্জ জয়
আর্জেন্টাইন কোচ মারিও গোমেজ যখন মাঝপথে দেশে ফিরে গেলেন, তখন ম্যানেজমেন্ট টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বায়েজিদ জোবায়েরকে দেয় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব। তবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার মূল কাজটা করেছেন সহকারী দুই কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী ও মাহবুব হোসেন রক্সি। এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন জিলানী, ‘এতদিন কারও সঙ্গেই কথা বলতে পারিনি, কারণ ভীষণ চাপে ছিলাম। আজ বলছি, কারণ বড় একটা চ্যালেঞ্জ জিততে পেরেছি। ভাবতে পারবেন না কী পরিমাণ চাপে থাকতে হয়েছে। এর জন্য আমি সব খেলোয়াড়কে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রক্সিও জানালেন কতটা বন্ধুর পথ পের হতে হয়েছে, ‘কোচসহ অনেক খেলোয়াড় চলে যাওয়ার পর দেশীয় কোচ-খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেদের প্রমাণের। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। এখন সুদিন ফেরার অপেক্ষায়। ভালো সময়ের মতো বিপদের সময়ও ক্লাব ছেড়ে যাইনি। আশা করি, সবাই এদিকগুলো বিবেচনা করবে। আগে আবার আগের জায়গায় ফিরব।’
হতোদ্যম কর্তাদের মধ্যেও আশার সঞ্চার
আবির্ভাবের পর থেকে যে ক্লাবটি মডেলে রূপ নিয়েছিল, সেই বসুন্ধরা কিংস শেষ দুই মৌসুমে বারবার আলোচনায় নেতিবাচক কারণে। ফুটবলারদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখায় সমালোচিত হতে হয়েছে কর্তাদের। এই সাফল্যের সব কৃতিত্ব তাই কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান দিয়েছেন খেলোয়াড়-কোচদের, ‘একটা দুঃসময়ের মধ্যে যাচ্ছি আমরা। এ সময় খেলোয়াড়রা তাদের সব মনোযোগ দিয়ে খেলেছেন, কোচরাও কঠিন পরিস্থিতিতে চেয়েছিলেন কিছু করে দেখাতে। তাই আমরা মনে করি, এই শিরোপার পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের।’
চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে মৌসুম শুরু। এবার এলো লিগ শিরোপা। চারদিন পর ফেড কাপ ফাইনাল জিতলেই চক্রপূরণ। তারপরও অস্বস্তি থেকে যাচ্ছে। জুনে শুরু হতে যাওয়া দলবদলে বসুন্ধরার অংশ নেওয়ার বাধা ফিফার নিষেধাজ্ঞা। ইমরুল জোর গলায় বলেছেন, সব বাধা দূর করে বসুন্ধরা ঠিকই দলবদলে অংশ নেবে, ‘এই শিরোপা না জিতলে হয়তো ম্যানেজমেন্ট-মালিকপক্ষ সবাই হতোদ্যম হয়ে পড়তাম। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেয়ারম্যান স্যার ফোন দিয়েছেন। তিনি অনেক খুশি হয়েছেন দলকে জিততে দেখে। দেখবেন সময়মতো সব বাধা পেরিয়ে আমরা সেরা দলই গড়ব।’




