সৌরভের ঝলকে ফাইনালে মোহামেডান

সংগৃহীত ছবি
গত মৌসুমে ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল মোহামেডানকে। এবারও শঙ্কা ছিল। তবে কোচ বদলে ভাগ্যও বদলে গেছে সাদা-কালো জার্সিধারীদের। মঙ্গলবার তারা পৌঁছে গেছে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে। কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে তৃতীয় কোয়ালিফায়ারে ফর্মে থাকা সৌরভ দেওয়ানের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর দল।
১৯ মে শিরোপার লড়াইয়ে মোহামেডানের প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা কিংস, যারা ব্রাদার্সকে আগেই হারিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে। মোহামেডানকে ১২তম ফেডারেশন কাপ জিততে হলে বসুন্ধরাকে এ আসরে দ্বিতীয়বার দিতে হবে পরাজয়ের তেতো স্বাদ। এর আগে গ্রুপ পর্বে তারা জিতেছিল ৩-২ গোলে।
২৫ বছরের সৌরভ দেওয়ান এবারের ফেডারেশন কাপের বড় আবিষ্কার। আলফাজ আহমেদের বিদায়ের পর কোচের দায়িত্ব নিয়ে সেন্টু একাদশে নিয়মিত করেন সৌরভকে। কোচের আস্থার প্রতিদান দেন ২১ এপ্রিল আরামবাগের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে। তাতে শেষ চার নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। কোয়ালিফায়ারে রহমতগঞ্জকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে সৌরভের ছিল এক গোল। আর দলকে ফাইনালে তুলতে করেন জোড়া গোল। টুর্নামেন্টে তার গোল ছয়টি, যা তাকে রেখেছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। বসুন্ধরার দরিয়েলতন গোমেজের আছে ৯ গোল।
ম্যাচের ২১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ব্রাদার্স। বল নিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকেপড়েছিলেন স্যামুয়েল চিগোজি। তবে শট নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর মোহামেডান ফরোয়ার্ড আরিফ হোসেনের ক্রসে সৌরভের হেড লক্ষ্যে থাকেনি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পান সৌরভ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো-ইন হেড ডি–বক্সে পাঠিয়েছিলেন এলি কেকে। মার্কারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হেডে বল পোস্টে পাঠান সৌরভ।
বিরতি থেকে ফিরে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স। ৪৮ মিনিটে বক্সের ওপর থেকে আলমগীর গাজীর জোরালো শট রুখে দেন মোহামেডান গোলকিপার সুজন হোসেন। ৫৬ মিনিটে সেরা সুযোগ নষ্ট করেন চিগোজি। মোহামেডান গোলকিপার সুজনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ব্রাদার্স ফরোয়ার্ড। তবে ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান জামাল ভূঁইয়া। ফ্রি–কিক থেকে দারুণ গোল করেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। তবে দিনটা ছিল সৌরভের। তাই তো ম্যাচের যোগ করা সময়ে মোজাফফরভের কর্নারে জয়সূচক গোল করে মোহামেডানকে নিয়ে যান ফাইনালে।





