ডুলির বাংলাদেশের ইউরোপ পরীক্ষা

হামজা চৌধুরীর আগমনে এখন জাতীয় দল ভীষণ চনমনে। ইতালি পরিবেষ্টিত ছোট্ট দেশ সান মারিনোর অচেনা পরিবেশটা এখন ভালো লাগতে শুরু করেছে। এখানে আজ শুক্রবার রাতে স্বাগতিক দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। যার মধ্য দিয়ে ইউরোপে প্রথম ম্যাচ খেলার স্বাদ মিলবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় নয়া কোচ থমাস ডুলির দল নিয়ে শেষ প্রস্তুতি সারার কথা। হামজাসহ গোটা দলকে দ্বিতীয় সেশনে দেখে কোচের সাজানোর কথা মূল একাদশ। তার আগে অবশ্য প্রতিপক্ষ সম্পর্কে নানাভাবে জানার চেষ্টা জারি আছে। দলের সম্ভাব্য সব উপায়ই কোচরা জেনে নিচ্ছেন সান মারিনোর শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সান মারিনো দলে চার থেকে পাঁচজন রয়েছেন যারা পেশাদার ফুটবলার। ইতালির তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে থাকেন। বাকিদের পুরোপুরি পেশাদার বলার সুযোগ নেই। তারা ফুটবল খেলার পাশাপাশি অন্য কাজও করেন। সান মারিনো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন খেলা বাবদ তাদের বেতনও দেয়। দলটির আক্রমণভাগে তিনজন আছেন, যারা বাংলাদেশের রক্ষণের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারেন। এর মধ্যে নিকোলা ন্যানি, ফিলিপ্প বেরার্দি এবং তরুণ ফরোয়ার্ড নিকোলাস জিয়াকোপেত্তিকে গড়ে উঠেছে আক্রমণভাগ।
ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনোর অবস্থান তলানিতে। ইউরোপের দলটি আছে ২১১ নম্বরে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১
দলটির ইতালিয়ান কোচ রবার্তো কেভলি ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন। ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দলটি ২২৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র তিনটি। তিন ম্যাচেই তারা হারিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলে আরেক অনগ্রসর দেশ লিচেনস্টেইনকে। কেভলির অধীনে ২০২৪ সালে তারা পেয়েছে শেষ দুই জয়। এরপর থেকে টানা ১১ ম্যাচ হারে সান মারিনো। সর্বশেষ গত মার্চে ঘরের মাঠে অ্যান্ডোরার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে।
র্যাংকিংয়ে ৩০ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও সান মারিনোকে অনেক দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। র্যাংকিংয়ে দলটি তলানিতে থাকার অন্যতম কারণ ইউরোপিয়ান নেশনস লিগ ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নামিদামি দলের সঙ্গে নিয়মিত খেলে হারের পরিণতি বরণ করা।
অর্থাৎ এ ম্যাচে খেলায় ঝুঁকি অনেক বাংলাদেশের। জিতলে র্যাংকিংয়ে খুব বেশি উন্নতির সুযোগ নেই। জিততে না পারলে র্যাংকিংয়ে পতনের বড় ঝুঁকি। নতুন কোচ থমাস ডুলির যেখানে র্যাংকিংয়ে উন্নতির অন্যতম লক্ষ্য, সেখানে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই তাকে নিতে হচ্ছে বড় ঝুঁকি।
২০০০ সালের পর আজই প্রথম ইউরোপে খেলবে বাংলাদেশ। ২৬ বছর আগে ইংল্যান্ডের লেস্টারে ভারতের সঙ্গে খেলেছিল বাংলাদেশ
বাফুফে অবশ্য প্রতিপক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তত এবার র্যাংকিংকে আমলে আনেনি। বরং ইউরোপে দলকে খেলাতে পারাতেই তাদের সন্তুষ্টি। এখন দেখার, র্যাংকিংয়ের ব্যবধানটা মাঠে ধরে রেখে ইউরোপে অভিষেকটা হামজারা জয়ে রাঙাতে পারেন কি না।
বুধবার দলে যোগ দিয়ে হামজা অবশ্য জয়ের আশার কথা বলেছিলেন। ইউরোপে ম্যাচ খেলাটা তার জন্য সহজ দাবি করে লেস্টার তারকা বলেছেন, ‘আমরা এখানে ভালো অভিজ্ঞতা নিতে এসেছি। চেষ্টা করব ম্যাচটি জেতার। প্রতিপক্ষ হিসেবে সান মারিনোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে আমরাও ভালো দল, এটা বিশ্বাস করলেই ম্যাচটি জেতা সম্ভব।’
এদিকে থমাস ডুলি বল ধরে রেখে ঝুঁকিমুক্ত ফুটবলে দলকে আত্মস্থ করতে চাইছেন বলে জানা গেছে। প্রতিপক্ষের পায়ে বল দিয়ে পেছন পেছন দৌড়ানোর পক্ষে নন তিনি। আবার নিজ রক্ষণকে ঝুঁকিতে ফেলে তেড়েফুঁড়ে গোলের চেষ্টাও তার অপছন্দ। এখন দেখার কাবরেরার অধীনে আক্রমণাত্মক ফুটবলে অভ্যস্ত বাংলাদেশ প্রথাগত ডুলির দর্শন কতটা আত্মস্থ করতে পারে। মানিয়ে নিলে ঝুঁকি কাটবে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রশংসিত ফুটবল খেলা বাংলাদেশ নিশ্চয়ই চাইবে না লিচেনস্টেইন থেকে।
শুক্রবার সান মারিনো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।





