আর্থিক অনিয়ম
ম্যাচ জিতে হলান্ডদের জুটল তিরস্কার ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অ্যানফিল্ডের চরম বৈরী পরিবেশে মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। স্বাগতিক লিভারপুল সমর্থকদের গ্যালারিভরা তিরস্কার, ব্যানার ও ক্ষোভের তোয়াক্কা না করে অলরেডদের ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এনজো মারেস্কার দল। কিন্তু বড় ধরনের শাস্তির মুখে থাকা সিটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
২০১৩-১৪, ২০১৮-১৯ এবং ২০২১-২২ মৌসুমে সিটির ঠিক পরে থেকে রানার্সআপ হওয়া লিভারপুল সমর্থকদের মাঝে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল যে, ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক কারচুপির আশ্রয় না নিলে শিরোপাগুলো তাদেরই হতো। এই পটভূমিতে অ্যানফিল্ডে ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে ‘আমাদের পুরো প্রজন্মকে প্রতারিত করা হয়েছে’ এবং ‘তোমাদের সব তারকার আলো নিভে আসছে’ জাতীয় নানা বিদ্রূপাত্মক ব্যানার ঝুলিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় স্বাগতিক সমর্থকেরা।
অ্যানফিল্ডের চরম বৈরী পরিবেশ সামলে ওঠা নিয়ে সিটি কোচ এনজো মারেস্কা বলেন, ‘আমরা জানতাম মাঠের বাইরে অনেক শোরগোল থাকবে। তবে আমাদের কাজ ম্যাচ জিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া। মাঠের বাইরের বিষয়গুলো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই আমি সেগুলোতে চাপ নেই না। আমি কেবল দল গঠন ও প্রাত্যহিক অনুশীলনে মনোযোগ দিতে পছন্দ করি।’
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত আর্লিং হলান্ড বলেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিটি সদস্য ও সমর্থকদের জন্য এটি একটি ভালোবাসার মুহূর্ত, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে থাকবে। এখানে এসে জয় পাওয়া সবসময় কঠিন। পেপ গার্দিওলা এবং ইয়ুর্গেন ক্লপের যুগেও দুই দলের লড়াই খুব কঠিন ছিল। মানসিকভাবে শক্ত থেকে একে অপরের পাশে থাকাটাই আমাদের মূল চাবিকাঠি ছিল।’
সিটির এই জয় উদযাপন সাময়িক স্বস্তি দিলেও তারা পয়েন্ট কর্তন বা প্রিমিয়ার লিগ থেকে রেলিগেশনের মতো সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির মুখে আছে। এই ম্যাচ প্রসঙ্গে বিবিসির প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি বলেন, ‘সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতে এমন জয় নিশ্চিতভাবেই সিটির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শক্ত বার্তা দিত। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান জটিল বাস্তবতায় এই জয়গুলো যেন কিছুটা অর্থহীন মনে হচ্ছে। সিটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রতিটি জয়ের পরই একটি অদৃশ্য প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাবে।’
্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় লিভারপুল সমর্থকেরা ‘তোমরা নিচে (রেলিগেশন) যাচ্ছ’ বলে স্লোগান তুলেছিল। ইংল্যান্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড ওয়েন রুনি বলেন, ‘ডার্বি কাউন্টিতে যখন আমার ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হয়েছিল, তখন আমি এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। খেলোয়াড়দের বার্তা একটাই থাকে—পরের ম্যাচটি জেতো। তবে বাইরে যাই ঘটুক না কেন, সিটির শেষ পরিণতি কী হবে—তারা কি শিরোপা লড়াইয়ে থাকবে নাকি রেলিগেশনে যাবে, তা এখনই কেউ বলতে পারছে না।’







