বাবা-ছেলে দুজনেই যখন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার

ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন এবং তার বাবা সাবেক আম্পায়ার নরেন্দ্র মেনন।
ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেননের নাম ক্রিকেট বিশ্বে কমবেশি সবাই জানেন। নিয়মিতই তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনায় দেখা যায়। নিতিন মেননের বাবা নরেন্দ্র মেননও কিন্তু আন্তর্জাতিক আম্পায়ার ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সালে আম্পায়ারিং থেকে অবসর নিলেও এখনও মাঠের পিচ, ব্যাট, বল ও স্টাম্পের মায়া ছাড়তে পারেননি। তাই ৮০ বছর বয়সেও শিখিয়ে যাচ্ছেন তরুণদের।
১৯৯০ সালে ভারতের প্রথম ব্যাচ হিসেবে যে ১০ জন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার আম্পায়ারিংয়ে এসেছিলেন, নরেন্দ্র মেনন ছিলেন তাদের একজন। ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। পরবর্তীতে প্রায় এক দশক বিসিসিআইয়ের আম্পায়ার কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চার বছর আগে নাতি হৃষভ খেলা শুরু করলে তিনি আবারও সেন্ট্রাল জিমেখানা মাঠে কিশোরদের তালিম দিতে ফিরে আসেন। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মেনন বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, রান আউট করার সময় ছোট বাচ্চারা হাতে বল না রেখেই স্টাম্প ভেঙে জোরাল আবেদন শুরু করে। তখন আমাকে তাদের বুঝিয়ে বলতে হয়, “উইকেট ভাঙার সময় বল অবশ্যই তোমার হাতে থাকতে হবে।” আবার কোনো ব্যাটার বোল্ড হলে ওরা হাউজদ্যাট বলে চিৎকার করে। আমি বলি, “বোল্ড হলে আউটের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।” ফ্রন্ট-ফুট নো বল কিংবা ব্যাক-ফুট নো বলের মতো বিষয়গুলো খেলার মাঠেই শিখিয়ে দিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ছেলেরা মূলত শেখা শুরু করে।’২২ বছর বয়সে ছেলে নিতিন মেনন তার বাবাকে বলেছিলেন, তিনিও আম্পায়ার হতে চান। ছেলের কথায় তখন কিছুটা অবাক হয়েছিলেন নরেন্দ্র। তারপর দিয়েছিলেন দারুণ এক উপদেশ, ‘আমি নিতিনকে বলেছিলাম—তুমি যদি একজন ভালো আম্পায়ার হতে চাও, তবে কখনো কোনো ব্যাটার বা বোলারের চেহারার দিকে তাকাবে না। তোমার একমাত্র কাজ হলো কোমর থেকে নিচের অংশে নজর রাখা। কেবল ব্যাট, বল এবং স্টাম্প দেখা। সে আজ পর্যন্ত আমার দেওয়া সেই পরামর্শই মেনে চলছে।’ ২০০০ সালের রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে ভিসিভিএস লক্ষ্মণকে রান আউট দেওয়াটা নিজের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি বলে মনে করেন নরেন্দ্র। বর্তমান যুগের প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে এই বর্ষীয়ান আম্পায়ার বলেন, ‘প্রযুক্তি আম্পায়ারিং এখন অনেক কঠিন করে দিয়েছে। আমাদের সময়ে মাত্র চার-পাঁচটি ক্যামেরা থাকত। আর এখন মাঠজুড়ে ২০ থেকে ২৫টি ক্যামেরা। কোনো ভুল করলে কোনো না কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়বেই।’






