সাক্ষাৎকার
রোনালদো আর্জেন্টাইন হলে ভালো হতো

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা এখন আছেন মিয়ানমারে। বিশ্বকাপের মহা-আয়োজনের মাঝে লিগ খেলার পাশাপাশি অজানা মিয়ানমারকে জানার চেষ্টা করবেন আর অবশ্যই চোখ থাকবে প্রিয় আর্জেন্টিনা ও প্রিয় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোয়। আগামীর সময়ের সুদীপ্ত আনন্দর সঙ্গে ঋতুর আড্ডায় উঠে এসেছে সদ্য খেলা নারী সাফ, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা আর অবশ্যই বিশ্বকাপ—
প্রশ্ন: অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল মাকে বাড়ি উপহার দেবেন। সেই স্বপ্ন তো পূরণের পথে। প্রধানমন্ত্রী আপনার পাশে দাঁড়িয়েছেন...
ঋতুপর্ণা: সত্যি খুব ভালো লাগছে। অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল মাকে একটা ভালো পরিবেশে রাখব, সুন্দর একটা বাড়ি উপহার দিতে পারব। সরকারের সহায়তায় জায়গা কেনা হবে এখন। এরপর বাড়ি বানানোর বড় দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।
প্রশ্ন: আপনার মা আর তিন বোনও নিশ্চয়ই খুব খুশি?
ঋতুপর্ণা: তা তো অবশ্যই। তবে বাবা আর ভাইটার কথা খুব মনে পড়ছে। ভাইটার কথা সবসময় মনে পড়ে। শুধু আজকের দিন না, প্রতিদিনই মনে পড়ে। ও থাকলে আমার বাবা থাকলে...। তারা অনেক খুশি হতেন।
প্রশ্ন: এবারের সাফের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন?
ঋতুপর্ণা: এবারের সাফ অনেক কঠিন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দল উন্নতি করেছে। ভারত অনেক গোছালো দল। নেপালও ভালো। ভুটান অনেক উন্নতি করেছে।
প্রশ্ন: সেমিফাইনালে অসাধারণ অলিম্পিক গোল করেছেন। এরকম গোলের জন্য তো অনেক অনুশীলন করতে হয়?
ঋতুপর্ণা: না, খুব একটা করি না, শুধু ম্যাচের আগে কয়েকটা কর্নার কিক অনুশীলন করি। আসলে আমার সবসময় চিন্তা থাকে বল হাওয়ায় বাঁক খাওয়ানোর। সবসময় হয় না, ভাগ্যক্রমে হয় যায় মাঝেমধ্যে।
প্রশ্ন: আপনার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?
ঋতুপর্ণা: সাবিনা আপু। তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তি। আপু নারী ফুটবলের জন্য যা করেছেন, তার তুলনা নেই। যখন জাতীয় দলে আসি, তখন অনেক ছোট ছিলাম। আপুর সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য কত কসরত যে করতে হয়েছিল। তার মতো একজন কিংবদন্তির মাঠ থেকে সুন্দর একটা বিদায়ের সুযোগ পাওয়া অবশ্যই উচিত।
প্রশ্ন: সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণারা থাকলে কি এবারও শিরোপা জিততেন?
ঋতুপর্ণা: আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাইছি না। শুধু এতটুকু বলব, সাবিনা আপুকে মাঠ থেকে সুন্দরভাবে বিদায় নিতে দেখলে ভালো লাগবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে বিদেশি লিগে খেলেছিলেন সাবিনা। তবে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই ছিলেন। আর আপনি প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে খেলতে গেলেন। মিয়ানমারে লক্ষ্য কী থাকবে?
ঋতুপর্ণা: মিয়ানমারে খেলা নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। আমার ক্লাব (এয়াওয়াডি ইউনাইটেড) গতবারের চ্যাম্পিয়ন। ভুটানের দুটি ক্লাবের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলাম। মিয়ানমারের প্রস্তাব তার চেয়ে অনেক ভালো। আমি এখানে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এসেছি। লক্ষ্যই ছিল দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো দেশে খেলার। মিয়ানমারে পারফরম্যান্স ঠিকঠাক করতে চাই। পাশাপাশি ওখানকার পরিবেশ, নতুন মানুষজনের সঙ্গে মিশে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই। সেখানে নিশ্চয়ই ভালোমানের ফুটবলারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ হবে। তাতে নিজের দুর্বলতার দিকগুলোও বুঝতে পারব।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ তো শুরু হয়ে গেছে। আপনার প্রিয় দল কোনটি?
ঋতুপর্ণা: আর্জেন্টিনা।
প্রশ্ন: কী মনে হয়, সেমিফাইনালে যাবে কোন চার দল?
ঋতুপর্ণা: আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল আর ব্রাজিল।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার সমর্থক, প্রিয় তারকা তো নিশ্চয়ই মেসি?
ঋতুপর্ণা: না। আমার প্রিয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। আসলে ছোটবেলা থেকেই রোনালদোকে আদর্শ হিসেবে মানি। আমি চাই ওর হাতে শিরোপা উঠুক।
প্রশ্ন: বলেন কী! আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে রোনালদোর হাতে ট্রফি দেখতে চান!
ঋতুপর্ণা: কী বলব, বিষয়টা খুব গোলমেলে। রোনালদো আর্জেন্টাইন হলে সবচেয়ে ভালো হতো (হাসি)।




