স্কালোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপ যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে আলবিসেলেস্তে ক্যাম্পে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা দল এখন যুক্তরাষ্ট্রে নিবিড় প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেসি-মার্তিনেসদের ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটাও হয়েছে বেশ ভালো। গোল পেয়েছেন লাউতারো মার্তিনেস এবং জুলিয়ানো সিমিওনে। অনায়াস জয়ের পরও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কপালে চিন্তার রেখা। কারণ, তার স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ছোট-বড় নানারকম চোটে আক্রান্ত। সর্বশেষ এই তালিকায় নাম লিখিয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন লিওনার্দো বালের্দি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচটিতে পেনাল্টি থেকে ৩৭ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লাউতারো। আর্জেন্টিনার হয়ে ইন্টার মিলান স্ট্রাইকারের এটি ৩৭তম গোল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লাউতারোর অ্যাসিস্টেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড সিমিওনে। কিন্তু ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্কালোনি বলেছেন, ‘আজ আমরা কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, তা সত্ত্বেও দলের মূল রূপটি হারিয়ে যায়নি। এই একাদশ নিয়ে আমরা খুব বেশি অনুশীলন করার সুযোগ পাইনি। দলের মূল দর্শন ঠিক ছিল— এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা এবং বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে ম্যাচ টাইম দেওয়া। আমরা আনন্দিত কারণ এ খেলোয়াড়রাই ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক সাফল্য এনে দেবে।’
তবে স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনের বেশিরভাগ জুড়েই থাকল খেলোয়াড়দের চোটাঘাত। অনুশীলনের সময় চোট পেয়েছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। ডান পায়ের পেশিতে পাওয়া সেই চোট এতটাই গুরুতর যে, বিশ্বকাপে আর খেলা হবে না ফ্রেঞ্চ ক্লাব মার্শেইয়ের এ ডিফেন্ডারের। হতাশ স্কালোনি বললেন, ‘আমরা সবাই আশা করছিলাম চোটটি যেন তেমন গুরুতর না হয়। কিন্তু পরে জানা গেছে, বালের্দির সোলিয়াস পেশিতে বড় সমস্যা। দুর্ভাগ্যবশত তাকে দল থেকে বাদ দিতে হচ্ছে, কারণ গ্রুপ পর্বে অবদান রাখতে যে ন্যূনতম ফিটনেস প্রয়োজন, সেটা তার নেই। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নই। সে বেশ কিছুদিন ধরেই ওখানে ছোটখাটো সমস্যায় ভুগছিল। ওকে এ খবরটি জানাতে আমার খুবই খারাপ লেগেছে।’
একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে স্কালোনি বলেছেন, ‘লিওনার্দোর প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে, কারণ অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে আমি যেদিন প্রথম দায়িত্ব নিই, সেদিন থেকেই সে এই দলের অংশ ছিল। ও কঠোর পরিশ্রম করেছে। ওকে যা বলার ছিল, সেটা বলেছি। ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। বালের্দির সঙ্গে যা ঘটেছে তা নিয়ে দলের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা থমথমে হয়ে পড়েছিল। আমরা যেভাবে পেরেছি পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। অনুভূতিটা মোটেও ভালো ছিল না; এটি আমাদের জন্য একটা কঠিন সময় ছিল।’
আর্জেন্টিনা দলটি এখন যেন ‘মিনি হাসপাতাল’। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাশাপাশি চোটের থাবায় পড়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস, থিয়াগো আলমাদা, নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মন্তিয়েল, নিকো পাসরা। অনেকেই চোট থেকে সেরে উঠেছেন, কেউ আছেন সেরে ওঠার পথে। এমতাবস্থায় দলের পরিকল্পনা নিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেছেন, ‘এখনই কোনো বদলি খেলোয়াড় নিচ্ছি না। আমি কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাই না, তবে আমরা অনেক খেলোয়াড়কে নিয়েই এখনো ১০০ ভাগ নিশ্চিত নই। তাই এ সিদ্ধান্তটি শুধু একজন সেন্টার ব্যাক নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আমরা অপেক্ষা করব। আমাদের সামনে আরও একটি ম্যাচ রয়েছে। লিওনার্দোর এই দুর্ভাগ্য আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমাদের মাথায় পরিকল্পনা আছে, তবে সম্ভবত মঙ্গলবার ম্যাচের আগে আমরা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব না। আমাদের দেখতে হবে বাকি ছেলেরা কেমন আছে।’




