প্রত্যাবর্তনটা রাঙানোর অপেক্ষায় জিকো

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তাতেই ফেরার দরজা খুলেছে সময়ের সেরা গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোর। ২০২৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলকিপারের খেতাব পাওয়ার পর সে বছরই একটি ঘটনায় কাবরেরার 'গুডবুক' থেকে কাটা পড়েছিল তার নাম। জাতীয় দলে দীর্ঘ সময় ব্রাত্য থাকার পর অবশেষে ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন ২৮ বছরের বসুন্ধরা কিংস কিপার।
চলতি মৌসুমে বসুন্ধরাকে লিগ শিরোপা রেসে রাখতে বড় ভূমিকা ছিল জিকোর। দলটির হয়ে ১৬ ম্যাচের ১৫টিতেই ছিলেন কিপারের দায়িত্বে। সাহসী কিপিংয়ে অনেক ম্যাচেই বসুন্ধরাকে বাঁচিয়েছেন। এছাড়া ফেডারেশন কাপে দলকে ফাইনালে তুলতে খেলেন দুই ম্যাচ।
এসবের পুরস্কার পেলেন জিকো। ৫ জুন ইউরোপের দল সান মারিনোর সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচের জন্য ডাকা প্রাথমিক দলে আছেন তিনি, বুধবার সান মারিনোর ভিসার আবেদন করেছেন।
এই দিনটির অপেক্ষা অনেকদিনের। ২০২৩ সালে জুলাইয়ে ভারতে সাফ খেলে আসার পর সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচে খেলেছেন। এরপর অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই লেগের প্লে-অফ ছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে। তার আগে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে দুই মাস নিষিদ্ধ হয়েছিলেন জিকো। সেটাই কাল হয়। ২০২৪ সালের মার্চে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশ্য স্কোয়াডে ফিরেছিলেন বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে দুই ম্যাচে। তবে সাইড বেঞ্চেই থাকতে হয়।
এরপর আর জিকোকে স্কোয়াডেই রাখেননি কাবরেরা। টানা ১৬ ম্যাচ থাকতে হয়েছে দলের বাইরে। একটা সময় হতাশা গ্রাস করেছিল। তবে সামলে উঠে চলতি মৌসুমে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পান বসুন্ধরার হয়ে।
জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়ে তাই ভীষণ আপ্লুত জিকো, ‘জাতীয় দলে খেলা সবসময় গর্বের। ফেরার লড়াইটা তো অনেক দিনের। অনেক পরিশ্রম করেছি। চলতি মৌসুমে নিয়মিত খেলেছি। তবে যখনই দল ঘোষণা হতো এবং বাদ পড়তাম, কষ্ট পেতাম অনিয়মিতদের ডাক পেতে দেখে। এবার সুযোগটা পেয়েছি, চেষ্টা করবো ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখার।‘
জিকোর জন্য নতুন শুরুটা চ্যালেঞ্জের। এখন শুরু মূল স্কোয়াডে সুযোগের লড়াই। শুক্রবার আবাহনীর বিপক্ষে লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকেই তার দিকে শ্যেনদৃষ্টি থাকবে সংশ্লিষ্টদের। এরপর জাতীয় দলের ভাবী কোচের কাছেও দিতে হবে প্রমাণ। তবেই জিকো নিতে পারবেন বুক ভরে নিঃশ্বাস।




