ঘুরে ফিরে সব চেনামুখই বিশ্বকাপের দলে

ছবি: বিসিবি
সপ্তমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের ক্রিকেটার ফাহিমা খাতুন। ৩৪ বছর বয়সী এই লেগস্পিনার ২০১৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফাহিমা দলে ছিলেন, নির্বাচকরা তাকে রেখেছেন এবারের দলেও। বিশ্বকাপে ২৪টা ম্যাচ খেলে ফাহিমা নিয়েছেন ১৪ উইকেট। ইংল্যান্ডে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও তাকে রেখেছেন সাজ্জাদ আহমেদ শিপন ও তার এক সময়ের সতীর্থ সালমা খাতুন।
মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলার মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ঘোষণা করা হয়েছে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল। এই দলটাই বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে, যেখানে স্বাগতিকদের সঙ্গে অন্য দলটি নেদারল্যান্ডস।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল নেপালে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই যোগ্যতা অর্জন করেছে ইংল্যান্ডের মাটিতে হতে যাওয়া মূলপর্বে খেলার। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আটকে আছে এই বাছাইপর্বের গন্ডিতেই, যেখানে পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ডের মতো নিচের সারির গুলোর বিপক্ষেই কেবল জিততে পারে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ছিল স্বাগতিক, যদিও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালের বাছাইপর্বেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন, ২০১৯ এবং ২০১৮ সালেও, তবে মূলপর্বে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র ৩টি। এর মধ্যে ২০১৪ সালেই ২টি জয় আর ২০২৪ সালে একটি। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড।
এবারো যে বাংলাদেশের মেয়েরা খুব বড় কোনো সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা নয়, বরং বলা যায় অনেকটা নিয়মরক্ষার মতোই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মেয়েদের ব্যাটিংয়ের দূরবস্থাটা ফুটে উঠে প্রকটভাবে। শীর্ষ দলগুলো যেখানে ওভারপ্রতি ৮-১০ রান করে নেয়, সেখানে বাংলাদেশের নারী দল ওভারপ্রতি ৬ রান তুলতেই খাবি খায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে জোরাল ধাক্কা লেগেছে জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগে। তবে তার আগে জাহানারা দলের ভেতর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির স্বেচ্ছাচারিতা, খেলোয়াড় বাছাইয়ের বেলায় স্বজনপ্রীতি, অপছন্দের ক্রিকেটারদের অনুশীলনের সুযোগ না দেওয়াসহ অনেক অভিযোগই করেছিলেন জাহানারা, যেসব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে অসত্য বলেই দাবি করা হয়েছে। কিন্তু দল গঠনে এখনো গোঁজামিলের উপস্থিতি স্পষ্ট। তাজ নেহারকে দলভুক্ত করার কারণ হিসেবে নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন জানিয়েছেন, ‘তাজ নেহার একজন বহুমাত্রিক খেলোয়াড় যিনি ১ থেকে ৬ নম্বর পজিশনের যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারেন। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ ৫ ওভারে রান তোলার যে সমস্যা দলে রয়েছে, তাজ নেহার সেটি সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন বলে নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন।'
তাজ নেহারের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ৮ ম্যাচ খেলে তিনি রান করেছেন সর্বমোট ৪৪। সর্বোচ্চ ইনিংসটা ১৯ রানের আর এখন পর্যন্ত খেলা ৭ ইনিংসে মাত্র ২ বার দুই অংকের ঘরে পৌঁছেছেন (১০ আর ১৯)। শুন্য দিয়ে অভিষেক হয়েছিল এই ডানহাতি ব্যাটারের, সর্বশেষ ইনিংসটা ১ রানের। তার বহুমাত্রিকতা কোথাও খুঁজে পেলেন নির্বাচকরা, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন!
ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ, দলে মারুফা আক্তারের সঙ্গে পেস বোলার হিসেবে আরও আছেন ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। সঙ্গে সিমিং অপশন হিসেবে আছেন ঋতু মনি, অন্যদিকে স্পিনারের সংখ্যাই বেশি- ফাহিমা, স্বর্ণা, রাবেয়া। এত বেশি স্পিনার কেন স্কোয়াডে তার ব্যখায় শিপন যা জানিয়েছেন সেটা বিষ্ময়কর। বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো হবে বার্মিংহাম, লিডস, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ও লর্ডসের মতো ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এবং সুপরিচিত মাঠগুলোতে। সেখানকার উইকেট নাকি এখন উপমহাদেশের মতো হয়ে গিয়েছে, এটাই বলেছেন নারী দলের প্রধান নির্বাচক, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো পেসারের পাইপলাইন বেশ সংকীর্ণ এবং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ইনজুরিতে পড়েন। যদিও ইংল্যান্ডের কন্ডিশন পেস সহায়ক হওয়ার কথা, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে উইকেট অনেকটা উপমহাদেশের মতো আচরণ করছে যেখানে বল স্পিন করে। তাই কন্ডিশন বিবেচনা করে এবং স্পিনারদের ওপর ভরসা রেখে দল সাজানো হয়েছে।’
পেস আক্রমণে বারুদ নেই, ব্যাটিংয়েও নেই বিস্ফোরক মেজাজ। প্রধান নির্বাচক অসহায়ত্ব জানিয়েই বললেন, ‘হ্যাঁ, রক্ষণাত্মক ব্যাটিং এপ্রোচ বর্তমানে দলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। রাতারাতি এটি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি।’
আরো একটা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা, এবং ঘুরে ফিরে চেনা কিছু মুখই পাচ্ছেন সুযোগ। কন্ডিশন ইংল্যান্ড হোক কিংবা আরব আমিরাত; ঘুরে ফিরে সেই চেনা কয়েকজন ক্রিকেটারদেরই দলে নেয়া আর ফলও আটকে আছে একই গন্ডিতে।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খাতুন, সুলতানা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, ঋতু মণি, দিলা আক্তার দোলা এবং তাজ নেহার।







