নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় সারির মানছেন না সিমন্স

দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডকে সমীহ করছেন সিমন্স। ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ সিরিজে মূল দল পাঠায়নি নিউজিল্যান্ড। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা একাদশেরই কেউ আসেননি বাংলাদেশে। তাদের দলটা দ্বিতীয় সারির। বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য মানছেন না সেটা। এই ক্যারিবিয়ান জোর দিয়েই বললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় সারির দল বলে কোন শব্দ নেই।
নিউজিল্যান্ড মূল দলের ৮ ক্রিকেটার এখন আইপিএলে ব্যস্ত। এই সুযোগে বাংলাদেশ সিরিজে বেঞ্চের ক্রিকেটারদের দেখে নিতে চাইছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় ভালো করা ব্যাটার মোহাম্মদ আব্বাস ও লেগ স্পিনার আশোককেও রাখা হয়েছে জাতীয় দলে।
আইপিএল, জাতীয় দল, ‘এ’ দল মিলে মোট ৫৪ জন কিউই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত। কোচ রব ওয়ালটার এ নিয়ে খুবই ইতিবাচক। জাতীয় দলের হয়ে বাংলাদেশ সিরিজ খেলতে আসা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত বলছেন তিনি।
একই সুর বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্সের কণ্ঠেও। নিউজিল্যান্ডকে সবসময় সেরা ক্রিকেটার তৈরি করতে দেখেন তিনি। দেশটির যে কোনো দলই তার কাছে সেরা, ‘দ্বিতীয় সেরা দল বলে কিছু আছে কিনা তা আমি জানি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে কোনো দল যে কোনো দেশে খেলতে যায় তারাই সেরা। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড, যারা প্রতিনিয়ত মেধাবী ক্রিকেটার বের করে। নিউজিল্যান্ড এই দলের ছেলেরা অনেক ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছে, তারা আন্তর্জাতিকে পারফর্ম করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
নিউজিল্যান্ডের এই দল থেকে তাই মিচেল স্যান্টনারদের মতোই চ্যালেঞ্জ আশা করছেন সিমন্স। কিউইরা বরাবরই পেস শক্তি নির্ভর। এশিয়ান কন্ডিশনে এলে স্পিনে জোর দেয় তারা। সিমন্স শুধু বোলিং বিভাগে না চ্যালেঞ্জ দেখছেন ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়েও, ‘আগের সিরিজে পাকিস্তানেরও শক্ত বোলিং আক্রমণ ছিল। কিন্তু আমরা সিরিজ জিতেছি। এবারও একই রকম চ্যালেঞ্জ আশা করছি, তাই সব দিক থেকেই আমরা সমান প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
প্রস্তুতিতে আনতে হচ্ছে নতুনত্বও। বিশ শতকের শুরুর দিকের মতো এই সিরিজ হচ্ছে দিনের আলোয়। তাই শিশির, কৃত্রিম আলোর প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে না বর্তমান সময়ের মতো। অনেকদিন পর দিনের আলোয় পুরো ম্যাচের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সিমন্সের চোখে দুই দলকেই লড়াই করতে হবে গরমের সঙ্গেও, ‘খেলার সময় এগিয়ে আসায় একটু পার্থক্য হচ্ছে। আমাদের এখন পুরো সময় গরমের সঙ্গেও লড়তে হবে। টেস্টের মতো পিচ সময়ের সঙ্গে ধীর আচরণ করবে। তবে আমরা সেভাবেই অনুশীলন করছি। আশা করি নতুনত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব।’
কিউইদের জন্য সিরিজটি র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে বাংলাদেশের জন্য ঠিক তার উল্টো। এই সিরিজ ৩-০ তে জিতলে বাংলাদেশ উঠে যাবে র্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে। ২-১ ব্যবধানে জিতলে পা দেওয়া হবে সাতে। শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে চাইলে এই উন্নতি ছাড়া অন্য পথ নেই।

