প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আলোচনা ৮ এপ্রিল, অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা কম

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত
মাঠে ক্রিকেট নেই, বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে সদ্ভাব নেই। সবশেষ বিশ্বকাপ হয়েছে মিস। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অধীনে বাংলাদেশের ক্রিকেট পার করছে সবচেয়ে নাজুক সময়। তার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে পদত্যাগ করেছেন আরও একজন পরিচালক। একইসঙ্গে মাঠের ক্রিকেটে অচলাবস্থা লম্বা করেছে বুলবুলের ব্যর্থতার তালিকা। তা ছোট করতে ৮ এপ্রিল ঢাকার ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করা নিয়ে আলোচনায় বসতে চান বুলবুল। কিন্তু তাদের বোর্ডকে অবৈধ বলা ৩৯ ক্লাব এ ডাকে সাড়া দেয়নি। তাই দেশের ক্রিকেটের অচলাবস্থা কাটাতে বুলবুলের চেষ্টার সুফলের সম্ভাবনা কম।
বুলবুলের বোর্ডে পরিচালকদের অনাস্থা বেড়েই চলেছে। এর আগে পদত্যাগ করেছেন দুজন। ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়ে আসা ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন। সবশেষ দায়িত্ব ছাড়লেন এনএসসি মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। বিসিবির লজিস্টিক ও প্রোটোকল বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই পরিচালকদের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হবে কিনা তা নিয়ে ৪ এপ্রিল বিসিবি বোর্ড সভায় আলোচনা হবে। তিনজনই ব্যক্তিগত কারণ দেখানোয় পদত্যাগ গ্রহণ করা ছাড়া কোন পথ খোলা নেই বুলবুলের বোর্ডের।
একই সভায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের ব্যাপারেও পরিচালকদের মধ্যে আলোচনা হবে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অল্প কয়েকজন বিসিবি পরিচালক মিলে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবারের সভায় বাকি পরিচালকদের তা জানানো হবে। আগামী বুধবার লিগ আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় করতে ক্লাবগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু আবাহনী-মোহামেডান-ব্রাদার্স-গাজী ট্যাংকসহ শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়েছে এই আমন্ত্রণ।
এর আগেও এমন আমন্ত্রণ সভা বিফলে যায়। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ ২৪টি দলের অর্ধেক দল বর্জন করছে জেনেও বিসিবি খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি ১২ ক্লাব। মার্চের শেষদিকে বিসিবি লিগের চতুর্থ স্তর, অর্থাৎ তৃতীয় বিভাগ লিগের একটি সমন্বয় সভা ডাকে, তখন মাত্র পাঁচটি দল বিসিবির সাথে যোগাযোগ করে। লিগ বয়কট করে ১৫টি ক্লাব।
এবার প্রিমিয়ার লিগের ১২ ক্লাবকে আমন্ত্রণ পাঠিয়ে ৮ দলের নেতিবাচক সাড়া পেল বুলবুলের বিসিবি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম বিভাগ দিয়ে দেরিতে শুরু হয় ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেট । কিন্তু উদ্বোধনী দিনে আটটি ক্লাব খেলা বর্জন করে, ফলে স্কোরকার্ডে তাদের ম্যাচগুলো ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে গণ্য হয়। মাত্র দুই রাউন্ড হওয়ার পর লিগ চালানো আর সম্ভব হয়নি।
এখন পর্যন্ত ৩৯টি ক্লাব ঢাকা লিগ বর্জন করেছে। বিসিবি নির্বাচন থেকে ক্লাব কোটায় মোট ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৪০টিরও বেশি ক্লাব অংশগ্রহণ করেনি। স্বাভাবিকভাবেই বুলবুলরা উদ্যোগ নিলেও ক্লাবগুলোর সঙ্গে বিসিবির দুরত্ব কমছে না বলাই যায়।

