টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট রুমানার

বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং তার আগে স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য গতকাল দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ঘুরেফিরে সেই পুরনো মুখদের নিয়ে দল গঠন করায় চলছে সমালোচনা। নারী ক্রিকেটে তাহলে নতুন মুখ নেই? নাকি দল দিতে হয় বলেই দিয়েছেন নির্বাচকরা? দেশের ক্রিকেটে চলমান এই বিতর্কের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন তারকা ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ।
আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রুমানা লিখেছেন, ‘গতকাল থেকে কিছু কিছু কথা কানে বারবার বাজছে, তাই আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। ভাবলাম, শেয়ার করি। আসলে এগুলো কী ধরনের মন্তব্য, কী ধরনের যুক্তি তা আমার মাথায় আসছে না। হয়তো শুধু নারী ক্রিকেট টিম হওয়ায় এই ধরনের কথাবার্তা ও যুক্তি উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। আমি এখানে কারও সিলেকশন নিয়ে কথা বলছি না। কিন্তু তিনি মিডিয়াতে যে বক্তব্যগুলো দিয়েছেন এবং যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে— আসলে দায়ভারটা কার ওপর বর্তাচ্ছে?’
রুমানা লিখেছেন, “একজন ‘আনফিট’ প্লেয়ারকে দীর্ঘ সময় ধরে দলে রাখা, এবং তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা বলা—এগুলো সত্যিই প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে খেলোয়াড় গত ১৬ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন এবং ঘরোয়া লিগেও যার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স নেই, তাকে নিয়েই শুধু বিশ্বকাপ ঘিরে বিশেষ চিন্তা করা হচ্ছে কেন? আরও বলা হয়েছে ‘সাইড পাইপলাইন’, ‘পেস বোলার’ এবং ঘরোয়া লিগ নিয়ে নানা মন্তব্য। কিন্তু এসব বক্তব্যের বাস্তব ভিত্তি ও দায়ভার আসলে কার ওপর বর্তায়, সেটাও পরিষ্কার নয়।”অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার লিখেছেন, ‘আমার জানামতে, বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড নারী ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ করছে। তাহলে প্রশ্ন থাকে, এই বাজেট কি শুধু ক্যাম্পে থাকা ২৫–৩০ জন ক্রিকেটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বারবার বলা হচ্ছে, ব্যাটিং সমস্যা, ব্যাটিং সমস্যা, অথচ একজন ব্যাটিং কোচ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। এই পাঁচ বছরে তিনি কতজন কার্যকর ব্যাটসম্যান তৈরি করতে পেরেছেন, সেটাও একটি বড় প্রশ্ন।’
শেষ হতাশা প্রকাশ করে রুমানা লিখেছেন, ‘এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে কথা বললে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তাই আপাতত সেগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। যে দলের আজ বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৫-৬ নম্বরে থাকার কথা, তারা এখন বিশ্বকাপে যাচ্ছে ১০ নম্বর অবস্থানে। এটা নিঃসন্দেহে খুবই উদ্বেগজনক। মাননীয় চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়গুলো দয়া করে গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন এবং বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে— আমি কেন বারবার এসব নিয়ে কথা বলি বা সমালোচনা করি? কারণ আমি এই দলটিকে অনেক কাছ থেকে বহু বছর ধরে দেখেছি। আমার ধ্যান-জ্ঞান ও ডেডিকেশন ক্রিকেটকে ঘিরে। আমি সবসময়ই এই দলের উন্নতি ও অগ্রগতি দেখতে চাই।’






