হঠাৎ করেই টেস্ট দলে লিটনের ফেরা

ছবি: আগামীর সময়
১৩ আগস্ট যার ফিটনেস টেস্ট নেয়ার কথা, সেই লিটন কুমার দাসকে হুট করেই শনিবার জাতীয় দলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হল! যে লিটনের চিকিৎসা, স্ক্যান রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসা বিভাগের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম ইকবাল, রাতারাতি সেই লিটন ফিট হয়ে গেলেন টেস্ট খেলার জন্য?
গত বুধবার বিসিবির বোর্ড সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেছিলেন, ‘লিটন দাসের ইনজুরি নিয়ে নির্বাচক এবং মেডিকেল ডিপার্টমেন্টকে শোকজ করা হয়েছে। লিটন কেন জিম্বাবুয়ে গেল যদি সে ফিট না থাকে, সেই জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে।‘ ৩ দিনের মাথায় লিটন টেস্ট খেলার মত ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন, ওদিকে বিসিবির শৃংখলা কমিটিও মেডিক্যাল বিভাগের কোন গাফিলতি খুঁজে পায়নি। তাহলে কি হলো ব্যপারটা? হঠাৎ করেই কি সুস্থ্য হয়ে গেলেন লিটন, নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা।
বিসিবির একজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে যেটা জানতে পারলাম, লিটনের পেশির যে সুক্ষ্ণ চিড়, সেটা নির্ণয় করার মত এমআরআই মেশিন বাংলাদেশে নেই। বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ লিটনের চিকিৎসা শুরু করেছে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হাসপাতালের এমআরআই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে। সেই রিপোর্টই যদি ভুল থাকে তাহলে আর কি করা? আর ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জাতীয় দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন জিম্বাবুয়েতে, সেখানে বসে রিপোর্ট দেখেই তিনি দিয়েছেন পরামর্শ। এতে করেই নাকি হয়েছে ভুল বোঝাবুঝি।
১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টের দলে লিটনকে সংযুক্ত করা হল শনিবার দুপুরে। আগামী কাল লিটন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় কাফ মাসলে চোট পেয়েছিলেন লিটন। ইনিংসের ৩২ ওভারের ৪৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর ৪৯তম ওভারে ফের ব্যাটিংয়ে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন লিটন।
সেই চোটই এখনো ভুগিয়ে যাচ্ছে তাকে। সিঙ্গাপুরে গিয়ে দেখিয়েছেন ডাক্তার, সেখানকার স্ক্যানিং মেশিনেই ধরা পড়ে যে পেশির ভেতর পানি জমেছে। তাকে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপিও দেয়া হয়েছে। বিসিবির সংবাদবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিটন চিকিৎসায় ভালভাবে সাড়া দিচ্ছেন,আশা করা হচ্ছে প্রথম টেস্টের আগেই তিনি একাদশে বিবেচিত হবার মত যোগ্য হয়ে উঠবেন।
বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, মুশফিক হাসান এবং লিটন কুমার দাস।







