পর্তুগালের জার্সিতে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়ার হেনরিকসের

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর জন্মভূমির হয়ে নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই ইতিহাস গড়লেন মোইসেস হেনরিকস। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পর্তুগালের হয়ে খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইউরোপ সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’-এর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাত্র ৫১ বলে বিধ্বংসী ১১১ রানের এক ইনিংস খেলেন হেনরিকস। তার এই সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করে পর্তুগাল। পরে বৃষ্টির কারণে চেক প্রজাতন্ত্রের ইনিংসের ৮.৫ ওভারে স্কোর যখন ৫ উইকেটে ২৪ রান, তখন ম্যাচ পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৯১ রানের বড় জয় পায় পর্তুগাল।
পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করা হেনরিকস ছোটবেলায় পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানেই তিনি ক্রিকেটের পাঠ নেন। ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র দলের জার্সিতে ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। গত জুলাইয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পর্তুগাল জাতীয় দলে তাকে অধিনায়কের দায়িত্বও দেওয়া হয়। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল পর্তুগাল। তবে ক্রিজে এসেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হন হেনরিকস। তার ১১১ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১২টি চার ও ৭টি ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট ২১৭.৬৪। ক্রিস্টোফার ডি ফ্রেইতাসের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৭ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি। এই সেঞ্চুরির সুবাদে টুর্নামেন্টের তিন ইনিংসে মোট ১৭৮ রান করে তিনিই এখন আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
মূলত আরেক সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার জো বোর্নসের ইতালির জার্সিতে খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন হেনরিকস। পর্তুগালে যোগ দেওয়ার পর দলের মান দেখেও তিনি বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গ্রুপ পর্বে টানা চার জয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্পেনের মুখোমুখি হতে চলেছে পর্তুগাল। এই ম্যাচে জয়ী দল ইউরোপীয় আঞ্চলিক ফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।









