আগামীর সময়

ওয়ানডে সিরিজ

রানার তোপে ১১৪ রানে অলআউট পাকিস্তান

রানার তোপে ১১৪ রানে অলআউট পাকিস্তান

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে উইকেটে ছড়ি ঘোরান স্পিনাররাই। এবার বদলে যাওয়া উইকেটে আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা। তার গতিতে দিশেহারা পাকিস্তান ৮২ রানে হারিয়েছিল ৯ উইকেট। টানা ৫ ওভারে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন রানা।

শঙ্কা জেগেছিল ১০০ রানের আগে পাকিস্তানের অলআউট হওয়ার। তবে লেজের ঝাপ্টায় শেষ পর্যন্ত স্কোরটা পৌঁছে ১১৪ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাট করে এটাই সর্বনিম্ন স্কোর পাকিস্তানের।
শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ।

এই জুটিতে আবরার শুধু সঙ্গ দিয়ে গেছেন ফাহিমকে। ১০ বল খেলে কোনো রানই করেননি তিনি। আট নম্বরে নামা আশরাফ ৪৭ বলে করেন ৩৭। তাসকিন আহমেদের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। নাহিদ রানা টানা ৫ ওভারে নেন ৫ উইকেট।

অথচ তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ২৪ রানে ৫ উইকেট রানার ওয়ানডে ক্যারিয়ার সেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও এটা। ২০১৯ সালে মোস্তাফিজুর রহমানের ৭৫ রানে ৫ উইকেট ছিল আগের সেরা।

টস হেরে ব্যাট করা পাকিস্তান প্রথম ৯ ওভারে বিনা উইকেটে করেছিল ৩৫ রান। প্রথম ৩৬ বলের ২৪টাই ডট খেলেছিল তারা! নাহিদ রানা আক্রমণে এসে ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের টপঅর্ডার।
নাহিদ রানার করা ১০ম ওভারের শেষ বলে পয়েন্ট সাহিবজাদা ফারহান (২৭) ক্যাচ নেন আফিফ হোসেনকে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শামিল হোসেনের ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। তবে বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি।

১২তম ওভারের তৃতীয় বলে তাকে ফেরান নাহিদ। শর্ট বলে বড় শটের চেষ্টায় আকাশে তুলে দেন তিনি, যা জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। গতিময় বোলিংয়ে মাজ সাদকাতের উইকেটও নেন নাহিদ। তার শর্ট ফাইন লেগে সাইফ হাসানকে ক্যাচ দেন ২৮ বলে ১৮ রান করা এই ওপেনার।

টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নেন নাহিদ রানা। নিজের চতুর্থ ওভারে রানা ফেরান মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও। ২০ বলে ১০ রানে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। নিজের করা পঞ্চম ওভারে রানা ফেরান সালমান আলী আগাকে। তার শর্ট বলে শর্ট স্কয়ার লেগে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সালমান (৫ রান)। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন রানা। আজ ষষ্ঠ ওয়ানডেতেই পেলেন ৫ উইকেট।

এরপর উইকেটের দেখা পান মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিষিক্ত আব্দুল সামাদ একটি রিভিউ নষ্ট করে ০ রানে ফেরেন লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে। ৭০ রানে ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে কখনও এত কম রানে ৬ উইকেট হারায়নি তারা।

মিরাজ এরপর ফেরান হোসেন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। ১০ ওভারে ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নাহিদ রানার। একটি করে উইকেট তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।




    শেয়ার করুন: