সিলেট টেস্ট
বৃষ্টি হলেও শঙ্কা দেখেন না মুশফিক

সংগৃহীত ছবি
র্যাডক্লিফের এঁকে দেয়া দাগ মানচিত্রে কাঁটাতার বসালেও মেঘেদের আসা-যাওয়া ঠেকাতে পারেনি। সিলেট সীমান্তের ওপারে মেঘের আলয়, অর্থাৎ মেঘালয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় যে জায়গাটাতে, সে চেরাপুঞ্জির অবস্থান সিলেট থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটারের মতো দূরত্বে। মৌসুমে বায়ুর আগমনী সময়ে সিলেটে বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরির সঙ্গে মিল রেখেই চলে সিলেটবাসীর জীবন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দীপ দাস সুজয় জানালেন, বৃষ্টি হলেও ভেজা মাঠের জন্য খেলা থেমে থাকবে না। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই ভালো। মুষলধারে বৃষ্টি হলেও বৃষ্টি থামলে আধঘণ্টা থেকে চল্লিশ মিনিটের মতো সময় পেলেই মাঠ খেলা চালানোর উপযোগী করে ফেলা সম্ভব।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ছিল চমৎকার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুই দিন দুপুর বেলা আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছিল। ঘণ্টা দুয়েকের তুমুল বৃষ্টির পরও খেলা শুরু করা গেছে ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ে। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে সিলেটের এই মাঠের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক জানিয়েছেন, ‘এখানে একটা জিনিস ভালো। মিরপুরের মতো এখানেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিশ্বমানের। সম্প্রতি আমরা বিসিএলে যে ম্যাচটা খেলেছি, চার দিনই আগের রাতে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রতিদিনই একই সময়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খেলা শুরু হয়েছে। যদি দিনে বৃষ্টি না হয়, তো আমি মনে করি যে, এখানে মাঝে মাঝে বৃষ্টির বিরতি দিয়ে হলেও খেলা হতে পারে। তবে যেহেতু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো, যদি আবহাওয়াটা একটু ভালো হয়, তাহলে এখান থেকেও টেস্টে ফল বের করে আনা সম্ভব। আর আমরা চেষ্টা করব, যতটুকু খেলা হবে সেখানে যেন আমরা ইতিবাচক একটা প্রভাব ফেলতে পারি।’
টেস্ট ম্যাচে বৃষ্টিতে খেলা থেমে থাকা মানেই দীর্ঘ অপেক্ষা, যেখান থেকে সৃষ্টি হয় মনোযোগের ঘাটতি। মুশফিক জানালেন, এই সময়ে ‘সুইচ অন সুইচ অফ’ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, ‘এখন বৃষ্টির মৌসুম প্রায় চলে এসেছে। আমরা জানতাম যে, ঢাকার টেস্ট পুরোটা হলেও থেমে থেমে হবে। কারণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এ রকম ছিল। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমি মনে করি, এটা প্রাত্যহিক কাজেরই একটি অংশ। এখন এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। তবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, খেলার সময় আমরা যেন সব মনোযোগ খেলাতেই দিই। যখন খেলা থেমে থাকবে, তখন খেলা নিয়ে বেশি না ভাবি। যখন আমার কাজ শুরু হবে তখন যেন আমরা সুইচ অন থাকি। আর যখন হবে না, তখন যেন আমরা অফ থাকি এবং আমরা অন্যকিছুতে ফোকাস করি।’
জয়দীপ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে দিনের বেলা কড়া রোদই ছিল, তবে রাতে বৃষ্টি হয়েছে নিয়মিত। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে, হালকা বৃষ্টি হয়ে থেমে গেছে দুপুরের দিকেই। মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাঠকর্মীদের দক্ষতা ও উপকরণ যা আছে; সবকিছু মিলিয়ে জয়দীপ আশ্বাস দিয়েছেন, সিলেট ভেন্যুর সক্ষমতা আছে, বৃষ্টি হলেও মাঠ খেলার উপযোগী করে ফেলার।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ প্রচলনের পর ম্যাচগুলোতে ফল আনার জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেই দেখা গেছে দলগুলোকে। বছর দুই আগে কানপুরে সাকিব আল হাসানের এখন পর্যন্ত খেলা শেষ টেস্ট ম্যাচেই তো প্রথম ৩ দিনে মাত্র ৩৫ ওভার খেলা হওয়ার পরও শেষ দুই দিনের খেলাতেই ফল এসেছে। সিলেটে বৃষ্টির আনাগোনা থাকবেই, এর ভেতরই খেলে ইতিবাচক ফল বের করে আনাটাই হবে চ্যালেঞ্জ। মেঘলা দুপুরে এমনটাই বলে গেলেন মুশফিকুর রহিম।






