গণঅধিকারের নেতাদের নিয়ে সারজিসের টিপ্পনি, রাশেদের জবাব

রাশেদ খাঁন ও সারজিস আলম।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যে চুপ থাকেননি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, যিনি দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ফেসবুকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দেন এ দুই তরুণ রাজনীতিবিদ।
শুরুটা করেন অবশ্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতা সারজিস। তার স্ট্যাটাসের বিষয় ছিল গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসানের উপসচিব পদমর্যাদায় বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাঞ্চলের পরিচালক হওয়া নিয়ে।
সারজিস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘একটা ন্যাশনাল পার্টির মুখপাত্র উপসচিব পদমর্যাদায় চাকরি করবে! পার্টি কতটা দেউলিয়া হলে হীনমন্যতা থেকে নেতারা এ কাজ করতে পারে!’
সারজিস এ স্ট্যাটাসের কমেন্টে ফারুক হাসানের নিয়োগের বিষয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একটা দলের শীর্ষ তিন নেতা পদের কাছে এভাবে দলটাকে বিক্রি করে দিল! বাকি নেতাকর্মীরা এখন কি করবেন সিদ্ধান্ত নিন! বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট!’
সারজিস কারও নাম উল্লেখ না করলেও তিনি যে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, রাশেদ খাঁন ও ফারুক হাসানকে ইঙ্গিত করছেন, তা অনেকটাই স্পষ্ট।
এদের মধ্যে নুর ও ফারুক গণঅধিকার পরিষদে নেতৃত্ব দিলেও রাশেদ গত নির্বাচনের আগে দলটি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থীও হয়েছিলেন রাশেদ, তবে জিততে পারেননি। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর বিএনপির সমর্থন নিয়ে ভোটে জেতার পর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
সারজিসের স্ট্যাটাসের জবাব দিতে গিয়ে তার আগের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আনেন রাশেদ। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটতো, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে?’
গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ লিখেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির আয়রনের ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি!’
‘আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যেসময় শেখ হাসিনা বিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মাইর খেয়েছি, তখন এ সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে!’
সারজিসকে ‘জুলাই গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও লিখেছেন, ‘জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরেও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস- হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে!’
রাশেদ খাঁনের এ স্ট্যাটাসের পর সারজিসও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। কমেন্টে তিনি লিখেছেন, ‘যত যাই বলেন না কেন ভাই, যতই ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা করেন; মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না।’



