কোরআনের বাণী
কিয়ামতের আদালতে জিহ্বা, হাত ও পায়ের সাক্ষ্যে উন্মোচিত হবে গোপন পাপ

প্রতীকী ছবি
কোরআনুল কারিমের বার্তা
সুরা : নূর, আয়াত : ২৪
بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
یَّوۡمَ تَشۡهَدُ عَلَیۡهِمۡ اَلۡسِنَتُهُمۡ وَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ اَرۡجُلُهُمۡ بِمَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
২৪. যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে।
এই আয়াতে কিয়ামতের দিনের এক ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ দুনিয়ায় অনেক সময় মুখে মিথ্যা বলে, পাপ অস্বীকার করে, অন্যের ওপর দোষ চাপায় কিংবা নিজের অপরাধ গোপন করতে চায়। কিন্তু আখিরাতের আদালতে কোনো মিথ্যা, অজুহাত বা কৌশল কাজে আসবে না। তখন মানুষের নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
মুফাসসিরগণ বলেছেন, এখানে ‘জিহ্বা’ বলতে সেই জিহ্বাকে বোঝানো হয়েছে, যা দিয়ে মানুষ মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, অশ্লীল কথা বা অন্যায় বক্তব্য বলত। ‘হাত’ সাক্ষ্য দেবে দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে, সে কী লিখেছে, কী গ্রহণ করেছে, কাকে আঘাত করেছে বা কোন অন্যায়ে অংশ নিয়েছে তা সেদিন হাত বলে দিবে। ‘পা’ সাক্ষ্য দেয়ার অর্থ হচ্ছে, মানুষ কোথায় কোথায় গিয়েছে, কোন পথে চলেছে এবং কোন গুনাহের মজলিসে উপস্থিত হয়েছে তা সেদিন পা বলে দিবে।
ইবনে কাসির (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মানুষের অঙ্গগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দেবেন। তখন তারা সত্য প্রকাশ করবে, যদিও মানুষ নিজে তা অস্বীকার করতে চাইবে। এটি হবে আল্লাহর পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারের প্রকাশ। (তাফসির ইবনে কাসির, সুরা নূর ২৪ নং আয়াতের তাফীসর)
কোরআনের অন্য জায়গায়ও এ বিষয়টি এসেছে। সুরা ইয়াসিনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেব। তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তারা যা উপার্জন করত সে সম্পর্কে।’ (সুরা ইয়াসীন, আয়াত : ৬৫)
সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন একজন মানুষ নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বলবে, ‘তোমরা কেন আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ আমাদের কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সবকিছুকে কথা বলান।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৬৯)
এই আয়াত মূলত মানুষকে সতর্ক করছে যে, গোপন বলে কিছু নেই। মানুষ সমাজের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহর জ্ঞান থেকে কিছুই গোপন নয়। যে হাত দিয়ে অন্যায় করি, যে জিহ্বা দিয়ে মানুষকে কষ্ট দিই, যে পা দিয়ে গুনাহের পথে চলি, একদিন সেগুলোই আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করা। জিহ্বাকে সত্য ও জিকিরে, হাতকে কল্যাণে এবং পাকে নেক কাজের পথে নিয়োজিত রাখা। কারণ কিয়ামতের দিন এগুলোই হয় আমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, নয়তো আমাদের ধ্বংসের কারণ হবে।




