মহালয়ায় ফরিদপুরে সন্ধ্যারতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্নে ফরিদপুরের বিভিন্ন মন্দিরে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান। ছবি: আগামীর সময়
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্নে ফরিদপুরের বিভিন্ন মন্দিরে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের ঝিলটুলি সার্বজনীন মন্দির, পুরাতন কালি মন্দির ও শ্রী ধাম শ্রী অঙ্গনে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তাকে বরণ করে নিতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় শারদীয় উৎসবের সূচনা লগ্নে মন্দিরগুলোতে ভক্তদের ঢল নামে।
ঢাকের উৎসব, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। শহরের ঝিলটুলি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ চণ্ডীপাঠ, মহিষাসুরমর্দিনী আলেখ্য, ঢাকের উৎসব এবং ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আসা ভক্তরা জানান, দেবীর আবাহনের এই বিশেষ সন্ধ্যায় তারা বিশ্বশান্তি এবং সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে মূলত দেবীর মর্ত্যে আগমন তথা শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।
এই সব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নায়াব ইউসুফ বললেন, ‘মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার সূচনা শুরু হলো। ফরিদপুরে আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে সুন্দর ভাবে বসবাস করি। আমরা সবসময়ই সব কাজ এক সঙ্গে করতে পারি, এটা আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। এবারের দুর্গাপূজা নিয়ে আমার দলের নেতাকর্মী এবং পুলিশ প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।’
আজ শনিবার ভোর থেকেই নদী ও জলাশয়গুলোতে শুরু হয়েছে পিতৃতর্পণের আনুষ্ঠানিকতা। ভোরবেলা চণ্ডীপূজা এবং মায়ের ঘট স্থাপনের মাধ্যমে দেবী পক্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনা শুরু হয়।
এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসছেন। শাস্ত্র মতে এর ফল ছত্রভঙ্গ বা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বলে মনে করা হয়। দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী নৌকায় দেবীর গমন শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূরণের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।
আগামী শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর (শনি ও রবিবার) — এবার সপ্তমী তিথি দুই দিন ধরে থাকবে। এর কারণে পূজার সময় একদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজার পর দেবীর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজা।




