রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : জয় নয়, রাজনৈতিক বার্তা জামায়াতের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নেই— এটা ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের কাছেও অজানা নয়। সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই তাদের। বিপরীতে ক্ষমতাসীন বিএনপির রয়েছে ২৪৭ সদস্যের শক্তিশালী অবস্থান। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগও নেই সংসদ সদস্যদের। ফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারপরও নির্বাচনের মাঠ ছাড়েনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বরং জয়-পরাজয়ের প্রচলিত হিসাবের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন নেতারা। এ কারণেই জোটের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে।
৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবার ভোটের মুখোমুখি হচ্ছেন দুই প্রার্থী। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ সাত রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয়নি ভোটের।
এ জায়গাতেই এবারের নির্বাচন আলাদা করে দেখছে ১১ দল। জোটসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও যদি একক প্রার্থী দিয়ে আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করা হয়, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবে না। তাই পরাজয় জেনেও নির্বাচনে থাকা তাদের কাছে একটি রাজনৈতিক অবস্থান। জোটের নেতারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি তৈরি করা জরুরি। কোনো নির্বাচনই যেন একতরফা না হয়— রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই বার্তাই দিতে চান তারা।
অলি আহমদ খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন করায় তার ভূমিকা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে রেখে তাকে প্রার্থী করার মধ্যেও প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা দেখছেন জোটের নেতারা। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে জামায়াতের অতীত ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিপরীতে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করা আলাদা তাৎপর্য বহন করছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি রয়েছে ১১ দলের। তাদের দাবি, জুলাই সনদ অনুযায়ী এ নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা থাকলেও প্রচলিত আইনে সংসদ সদস্যদের ভোট কার্যত প্রকাশ্য হয়ে যায়। প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেওয়ার কারণে ভোটারের পছন্দ গোপন থাকে না।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো একমত থাকার পরও সেই পরিবর্তন বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অলি আহমদের প্রার্থিতার মধ্য দিয়ে এই ইস্যুও সামনে আনতে চাইছে ১১ দল। বর্তমান সংসদে বিএনপির ২৪৭ সদস্যের বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের সদস্য ৯০ জন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য। ফলে সংখ্যার হিসাবেই অলি আহমদের জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নেওয়া হবে ভোট।
তবে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলছেন, তাদের কাছে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়। তার ভাষায়, ‘আমরা ইলেকশনে অংশগ্রহণ করব দলীয়ভাবে, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে জয়-পরাজয়টা বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসছি।’ তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’ করেছে— এটিও তারা নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে চান। তার দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হতো এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন। তাহলে ১১ দলের প্রার্থীই নির্বাচিত হতেন বলে মনে করেন তিনি।






