আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সমাবেশস্থলে—ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) তৎকালীন বিরোধীদল (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের জনসভায় ঘটে এ হামলার ঘটনা।
সারা দেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ওইদিন বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভাটির আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে সমাবেশস্থলে এসে একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
এরপর তিনি যখন মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসছিলেন ঠিক তখনই মঞ্চ লক্ষ্য করে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে প্রাণ হারান আরও ১২ জন। এ হামলায় শেখ হাসিনাসহ আরও অন্তত ৩০০ মানুষ আহত হয়েছিলেন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী আইভি রহমান, তিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।
নিহত অন্যরা হলেন—মোস্তাক আহমেদ সেন্টু (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক), ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ (শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্য), রফিকুল ইসলাম (ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য), সুফিয়া বেগম (ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী), হাসিনা মমতাজ রীনা (ঢাকার ১৫ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি), লিটন মুন্সী ওরফে লিটু (মাদারীপুর যুবলীগ নেতা), রতন সিকদার (রি-রোলিং মিল ব্যবসায়ী), মো. হানিফ (ঢাকার ত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশা শ্রমিক লীগের নেতা), মামুন মৃধা (ছাত্রলীগ নেতা), বেলাল হোসেন (ঢাকার ৬৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক), আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম (যুবলীগ কর্মী), আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী (স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী), আতিক সরদার (যুবলীগ নেতা), নাসিরউদ্দিন সরদার (শ্রমিক লীগের কর্মী), রেজিয়া বেগম (স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেত্রী), আবুল কালাম আজাদ (ঢাকার বালুঘাট ইউনিট যুবলীগের সভাপতি), ইছহাক মিয়া, শামসুদ্দিন, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী ও মমিন আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী।
গ্রেনেড হামলার পর ঘটনাস্থলে বা হাসপাতালে নেওয়ার সময় কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা মৃত্যুবরণ করেন। তবে, নিহত অপর দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
২১ আগস্টের সেই হামলার ২২ বছর পরও দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার স্মৃতি বহন করছে।







