হামলার পর সেই চিকিৎসককে ডেভিড ইমনের নামে হুমকি
- ১৫ হাজার ডলার চাঁদা চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার পরও থেমে নেই সন্ত্রাসীরা। ফের হুমকি দিয়েছে তাকে। এর আগে গত ৬ আগস্ট হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তার কাছে দাবি করা হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার। ১৪ আগস্টের মধ্যে ওই চাঁদা পরিশোধের জন্য বেঁধে দেওয়া হয় সময়সীমা। নির্ধারিত সময়ে অর্থ না দেওয়ায় ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে হামলা হয় তার ওপর। এ ঘটনায় জীবন নামে একজন গ্রেপ্তার হলেও হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদের ধরতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক আসাদুরের দুই চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার চোখের কর্নিয়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার আহত চিকিৎসক বললেন, গত ৬ আগস্ট হুমকি পেলেও দেননি গুরুত্ব। কোনো প্রতারক চক্র হয়তো তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে— এমনটি ভেবে আইনগত ব্যবস্থাও নেননি তিনি। তবে হামলার পর তিনি বুঝতে পারেন, হুমকির সঙ্গে হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
‘হামলার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর সন্ত্রাসীরা তাকে আবার বার্তা পাঠিয়ে জানতে চায়, ‘এখন কেমন লাগে?’ পরদিন ১৮ আগস্ট ফের হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে আরও লাগতে আসবা? তুমি কোথায় যাবা, যার কাছেই যাবা তাদের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ আছে’— জানালেন ডা. আসাদুর। তিনি যোগ করলেন, ‘এসব হুমকি ডেভিড ইমন নামে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি এখন ভীতসন্ত্রস্ত। এর পেছনে কোনো বড় গ্যাং থাকতে পারে।’
হুমকির বার্তায় আরও বলা হয়, তিনি (ডা. আসাদুর) চাইলে সরকারের যেকোনো সংস্থা, পুলিশ বা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থায়ী নিরাপত্তা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা কথিত দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার হুমকিও দেওয়া হয়।
‘শান্তিনগরের পপুলারের তিন নম্বর ভবনে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন ডা. আসাদুর। হঠাৎ অটোরিকশাটি থামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায় চার-পাঁচ ব্যক্তি। এতে তার মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত লাগে। হামলার সময় এক হামলাকারীকে ধাওয়া করে ধরে পুলিশে দেন পথচারীরা’— বর্ণনা দিলেন শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম।
পুলিশের ধারণা, এরা কোনো একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপের মাঠকর্মী। ছদ্মনাম ব্যবহার করেছে তারা। জীবনের আরেক নাম আদিল। হামলায় অংশ নেওয়া অন্য চারজনের ছদ্মনাম পাওয়া গেলেও মেলেনি বিস্তারিত। পল্টন থানার ওসি মোস্তফা কামাল খান জানিয়েছেন, ডা. আসাদুরের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। ওই মামলায় জীবনকে গ্রেপ্তার েদখিয়ে নেওয়া হয়েছে রিমান্ডে। তার বাসা রাজধানীর ডেমরায়, গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর।
‘ডেভিড ইমনের নামে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেই ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে কারাগারে। তার নাম ব্যবহার করে হয়তো অন্য কোনো গ্রুপ এই হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ক্যাপ্টেন ইমন নামে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে। তবে এরা কেউ এই হুমকি ও হামলার সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে’— অগ্রগতি জানাল পুলিশ। এদিকে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, অতীতে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় যথাযথ বিচার না হওয়ায় বারবার ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। ডা. আসাদুরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।






