আগামীর চোখ
সভাপতি পরিবার!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
শিক্ষামন্ত্রী
সালাম নেবেন। আমি সাভারের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করছি না; এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে লিখছি কি না! ঘাড়ে তো একটাই মাথা। কিন্তু আপনাকে হিন্ট দিতে পারি; সাভারের যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে এমপি সাহেব, তার স্ত্রী ও ভাই রয়েছেন, সেগুলোর একটিতে আমার সন্তান পড়ছে। পয়েন্টে আসি। এমপি সাহেব পরিবার-পরিজন নিয়ে যেভাবে ঘাঁটি গাড়লেন, তা দেখে যারপরনাই ভয় পাচ্ছি। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাথার ওপর যদি ক্ষমতাসীনরা থাকেন, সেখানে দুটি কাজ হয়— একটি হলো রাজনৈতিক হৈ-হল্লা বেড়ে যাওয়া, আরেকটি হলো প্রয়োজনীয় বিষয়ে তার সাক্ষাৎ না পাওয়া। তারা এতই প্রটোকলের ভেতর অবস্থান করেন যে, তাদের কাছে ভিড়তে হলে রীতিমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন পড়ে। তা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ব্যবহার, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে মোটা টাকার লেনদেন তো আছেই।
২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজ নির্বাচনী এলাকায় চাইলেও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন না। কিন্তু আমাদের সাভারের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গত ৯ জুলাই গাজীরচট আকবর মণ্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি পদে আসীন হয়েছেন। এটি আদালতের রায়ের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ছায়া মন্ত্রিসভার কথা শুনেছিলাম, এখানে দেখি ছায়া সভাপতি
ক্ষমতার এই মধু কেবল এমপির নিজের প্লেটেই ওঠেনি, তার ছোট ভাই দেওয়ান মোহাম্মদ মঈনউদ্দিনকে জুনের মধ্যেই শিমুলিয়া শ্যামা প্রসাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে এমপির স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকার বেলায়। মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির আগের সভাপতিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাবিনা সিদ্দিকাকে! মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেচারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেইল পাওয়ার আগে জানতেনই না সভাপতি যে বদলে গেছে! ক্রিটিককারীরা বলছেন, ভাই ও স্ত্রী অফিসিয়ালি সভাপতি হলেও আদতে এমপি নিজেই ওই চেয়ারে বসে রয়েছেন! ছায়া মন্ত্রিসভার কথা শুনেছিলাম, এখানে দেখি ছায়া সভাপতি! আরেকটু এগিয়ে কেউ কেউ বলছেন ‘সভাপতি পরিবার’!
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও গভর্নিং বডির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ভীষণ জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ সময় ক্ষমতাসীনরা সভাপতির চেয়ারে বসে গেলে সেটি আর থাকে না। তারা ছড়ি ঘোরাতে পছন্দ করেন, যার প্রভাব পড়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর। সবই বললাম, এবার ‘সভাপতি পরিবার’ নিয়ে সিদ্ধান্ত আপনার।
ইতি
এক অভিভাবক






