আগামীর চোখ
একেই বোধহয় বলে ‘স্বাবলম্বী গণতন্ত্র’

প্রিয়
আইনজীবীগণ,
আপনাদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও বার সমিতির নির্বাচন ঘিরে যে বারো মসলার জগাখিচুড়ি জাতি দেখেছে, তাতে একজন নাগরিক হিসেবে আমার কিছু তেতো কথা বলতেই হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের বারান্দায় যখন কালো কোট পরে আপনারা হাঁটেন, তখন মনে হয় দেশের সংবিধানের প্রতিটি ধারা বুঝি আপনাদের পকেটে। কিন্তু নির্বাচনের বাতাস বইলে বোঝা যায়, সংবিধান কিংবা গণতন্ত্রের চেয়ে ‘লবিংয়ের জোর’ কত শক্তিশালী!
ইদানীং আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের আচরণ দেখে আমরা হতবাক হই। অসহায় চোখে দেখি, তারা নিজেদের মক্কেলের গায়ে হাত তোলেন, সহকর্মীদের গাউন ছেঁড়েন; নারী সহকর্মীরাও তাদের লাঞ্ছনার হাত থেকে পান না রেহাই। শুধু ভিন্নমতের বলে কারও আইনি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আপনারা। শরীরে কালো কোট চড়ানো না থাকলে আমাদের বুঝতে কষ্ট হয়, আপনারা কি আইনের এপারের না ওপারের লোক।
অসহায় চোখে দেখি, তারা নিজেদের মক্কেলের গায়ে হাত তোলেন, সহকর্মীদের গাউন ছেঁড়েন
সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বার সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর নির্বাচনে যে তাণ্ডব আমরা দেখেছি, তাতে আপনাদের কাছে আইনি সেবা নিতে একজন নিরীহ নাগরিক হিসেবে যেতে আমি ভয় পাই। যদি ডিম ছুড়ে মারেন কিংবা পিটুনি দিয়ে হাড় বা দাঁত ভেঙে দেন। আপনাদের কোনো কাজের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া তো আর আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিনোদন ছিল— ভোটের লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের আত্মবিশ্বাস। কোনো টেনশন নেই, নিজের প্রার্থী হারবেন সেই ভয় ছিল না। কারণ, যিনি জিতবেন তিনি তো আগেই ঠিক হয়ে আছেন, কিংবা যিনি লড়ছেন তার বিপরীতে যিনি আছেন, তার গায়ে ‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ লাগানো। সদস্যপদও খারিজ হয়ে গেছে। একদলীয় এ মহোৎসবে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে দুই দল বিজ্ঞের মধ্যে যে কাড়াকাড়িটা হয়ে গেল, তা হাড্ডি নিয়ে দুই প্রাণীর কামড়াকামড়ির কথা মনে করিয়ে দেয়।
এবারের বার নির্বাচনের মাঠে গোলপোস্টে কোনো গোলকিপার নেই, স্ট্রাইকার একাই বল নিয়ে দৌড়াচ্ছেন আর নিজের পায়ে নিজেই ল্যাং খেয়ে ট্রফি তুলে নিচ্ছেন। একেই বোধহয় বলে ‘স্বাবলম্বী গণতন্ত্র’!
ইতি
জনৈক নাগরিক




