আগামীর চোখ
কাগজে এসি চলছে, ঘরে দম আটকাচ্ছে!

মাননীয়
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাশয় সমীপেষু,
সালাম নেবেন। আশা করি, সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে অফিস শেষে বাড়িতেও আপনি সপরিবারে বহাল তবিয়তে আছেন। আপনার ঘরের এসিটি নিশ্চয়ই ঠিকঠাক কাজ করছে? মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না তো? একটু খেয়াল রাখবেন, প্লিজ। এসি বন্ধ হলে যে কী হয়, সেটা তো আপনার থেকে ভালো আর কে জানে!
পিতা-মাতার কোল খালি করে দেওয়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষের সেই ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা নিয়ে আপনার সংবাদ সম্মেলনের খবরটি পড়লাম। বুকটা জুড়িয়ে গেল মন্ত্রী মহাশয়। আপনি বলেছেন, ৯০০ বর্গফুটের ওই ঘরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিল। চমৎকার পর্যবেক্ষণ! আমাদের গরিবের দেশে একটু গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকাই রেওয়াজ।
একটা অনুপযুক্ত ভবনে আদ্-দ্বীনের মতো মরণফাঁদ চলছে, সেটা দেখার দায়িত্ব কার ছিল?
তবে সবটুকু কৃতিত্ব আপনার নয় মন্ত্রী মশাই, একটু বাহবা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও প্রাপ্য। কী দারুণ তাদের ব্যবসা বুদ্ধি!
৯০০ বর্গফুটের একটা খাঁচায় জ্যান্ত নবজাতক আর তাদের পরিজনদের পুরে দিয়ে তারা দিব্যি ‘টাকা বানানোর’ যন্ত্র চালাচ্ছিল। হাসপাতাল নাকি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান! আদ্-দ্বীন তো প্রমাণ করে দিল, ওটা আসলে একটা ঝাঁ-চকচকে কসাইখানা। যেখানে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিলেও অক্সিজেনের বদলে জোটে স্রেফ বিষাক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড। আমরা তো জানতাম, বেসরকারি হাসপাতালের মোটা টাকার রসিদেই সব অক্সিজেন লুকানো থাকে। এখন শুনছি, চড়া বিল দিলেও নবজাতকের ছোট্ট বুকের বাতাসটুকুও কিনতে পাওয়া যায় না! আদ্-দ্বীনের কর্তারা এখন বলছেন, ‘কারও না কারও অবহেলা ছাড়া নাকি দুর্ঘটনা ঘটে না।’
সবচেয়ে ভালো লাগল আপনার আইনি হুঁশিয়ারি। আপনি বলেছেন, ‘আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, ততটুকুই যাব।’ রবিবার নাকি চরম সিদ্ধান্ত নেবেন! কিন্তু মন্ত্রী মশাই, এই যে বছরের পর বছর এমন একটা অনুপযুক্ত ভবনে আদ্-দ্বীনের মতো মরণফাঁদ চলছে, সেটা দেখার দায়িত্ব কার ছিল? সাধারণ মানুষের কি তবে এখন থেকে হাসপাতালে ঢোকার আগে পকেটে ফিতে আর অক্সিজেন মাপার যন্ত্র নিয়ে ঘুরতে হবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনাদের নজরদারিতে নাকি গলদ ছিল। আমি অবশ্য তা বিশ্বাস করি না। আপনাদের এবং ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি তো শতভাগ ঠিক আছে— তবে তা শিশুর লাশ কাটাছেঁড়ার আইনি ফাঁকফোকর খুঁজতে আর নিজেদের পিঠ বাঁচাতে!
যাক গে, আপনি এখন বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার আগে পরিবেশের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার মহান চিন্তায় মগ্ন। ভালো থাকবেন মন্ত্রী মহাশয়। আগামী রবিবারের মহানাটকের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি
এক নবজাতকের পিতা





