Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় কলাম

পরীক্ষার ফল ও সামাজিক স্বাস্থ্য

কাওসার চৌধুরী
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১
পরীক্ষার ফল ও সামাজিক স্বাস্থ্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

গত ১১ আগস্ট দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর দেখে থমকে গিয়েছি। রাজশাহীর বাগমারা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য দুই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়া চাঁদপুরের শহরাস্তি উপজেলায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনেই এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। দুঃখজনক।

তিন নম্বর মৃত্যুটি (অকৃতকার্যের খবর শুনেই মৃত্যু) দিয়ে আলোচনাটি শুরু করা যায়। বিশেষজ্ঞের মতে, অকৃতকার্য হওয়ার খবরটি শোনার সময় মেয়েটির মনোদৈহিক অবস্থার অবনতি এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ‘এসএসসি পাস করেছি’— এমনটি শোনার আকুলতা নিয়ে মেয়েটি হয়তো অপেক্ষা করছিল। ঠিক ওই সময়ে প্রত্যাশার বিপরীতে অকৃতকার্য হওয়ার দুঃখজনক খবরটি শোনায় মেয়েটির রক্তচাপ হয়তো অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে ‘যথাযথ’ চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় মেয়েটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনোবিশেষজ্ঞ অনুমান করেন।

অনুমান করি, প্রকাশিত খবরে তিনটি মেয়ে মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তেরই শ্রেণিভুক্ত। সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ অনুযায়ী, অনগ্রসর এবং প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এই সমাজে একটি মেয়ে যদি মাধ্যমিক স্তরের এই পরীক্ষা-পাসের সনদটি অর্জন করতে না পারে, তাহলে তাকে নানা রকম সামাজিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়।

নিগ্রহের প্রথম ধাক্কাটি আসতে পারে তাদের অভিভাবক তথা পিতা-মাতার ওপরে! পড়শিদের কেউ হয়তো ইঙ্গিতে কিংবা সরাসরি অভিভাবকদের বলে বসতে পারে— ‘কী সন্তান জন্ম দিলা, জীবনের পয়লা পরীক্ষাটিতেও পাস করতে পারল না।’ এ ধরনের কথাবার্তা আমি নিজেও উচ্চারিত হতে শুনেছি আমাদের গ্রামে! এতে পিতা-মাতার মানসিক অবস্থাটা কী রকম হতে পারে, সেটি সহজেই বোধগম্য।

ভিকটিমের কাছে দ্বিতীয় ধাক্কাটি আসতে পারে খোদ পিতা-মাতার কাছ থেকেই; তাদের ‘সাইকোলজিক্যাল লিটারেসি’র অভাবে। নিম্নবিত্ত পরিবারে তো বটেই, এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবককেও তাদের অকৃতকার্য সন্তানকে বলতে শোনা যায়— ‘ওই যে যারা পাস করল, তাদের চাইতে তোরে কি কম খাওয়াইসি কোনোদিন? জামা-কাপড়, তেল-সাবান কি ওদের চাইতে কম দিসি তোরে? তাইলে পাস করতে পারলি না ক্যান?’ এখানে বিষয়টি এমন— যেন খাওয়া-পরা এবং তেল-সাবানের বিনিময়ে সন্তানকে যেকোনো মূল্যেই ‘পরীক্ষা পাসের সনদ’টি অভিভাবকের হাতে তুলে দিতে হবে। তাহলেই তার খাওয়া-পরার ঋণ শোধ হবে!

তৃতীয় ধাক্কাটি আসতে পারে মেয়েটির বিয়ের বেলায়। এসএসসি-ফেল মেয়েকে পাত্রপক্ষ পছন্দ করে বউ বানিয়ে নিয়ে যাবে সংসারে— এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

ভাবতেও বিস্ময় লাগে, এতগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কার ভার কিংবা হিমালয়সম অপমানের বোঝা কি ১৬/১৭ বছরের একটি মেয়ের পক্ষে বহন করা সম্ভব? মনোবিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুর রাহমান বলেন, মানুষ প্রধানত তিনটি মানসিক স্তরে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে। এক. অতিরিক্ত লজ্জার বশে; দুই. অতিরিক্ত রাগের বশে এবং তিন. অতিরিক্ত বিষণ্নতা কিংবা হতাশায়। এখানে উল্লিখিত দুটি আত্মহত্যার ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত লজ্জা এবং হতাশার চাপ অতিমাত্রায় ক্রিয়াশীল ছিল বলে অনুমান করা যায়। এ ক্ষেত্রে মেয়েটির পরিবার এবং তার অভিভাবকরা তাদের দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

এবারে সমাজের ‘মানসিক স্বাস্থ্য’টি একবার লক্ষ করা যাক। স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেশের মানুষকে একটি সার্বক্ষণিক চাপের মধ্যে রেখেছে। প্রতিটি পটপরিবর্তনে পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিবাদ-বিসম্বাদ লেগেই থাকে। শুরুতে খুব একটা না থাকলেও পরবর্তী সময়ের পটপরিবর্তনগুলোতে সহিংসতা ক্রমে বেড়েছে। সম্প্রতি, দু-চার বছরে এই অবস্থা উঠেছে চরমে! এতে মানুষের প্রতি মানুষ মানবিক হওয়ার স্থলে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাড়ছে মানসিক চাপ।

ভৌগোলিকভাবেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ নাজুক। প্রকৃতি এই জনপদের মানুষকে ‘দৌড়ের’ ওপরে রাখে ফি বছর। বন্যা-খরা-অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি আমাদের এ অঞ্চলে প্রকৃতির চেনা-চরিত্র। এত সবকিছু মোকাবিলা করেই মানুষ ‘তবু’ বেঁচে আছে এখানে, এই জনপদে।

চুয়ান্ন বছরে এতগুলো সরকার এলো-গেল; কিন্তু এ দেশের মানুষের ‘মানসিক স্বাস্থ্যের’ কোনো উল্লেখযোগ্য যত্ন কোনো সরকারই নেয়নি। শরীরের পাশাপাশি ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ বলে যে একটি বিষয় আছে, দেশের অধিকাংশ মানুষ সেটাই তো জানে না। সাধারণ মানুষের কাছে মানসিক চিকিৎসা মানেই ‘পাগলের চিকিৎসা’! রাজধানী ঢাকার মতো জায়গায় মানুষ ‘মনোচিকিৎসক’-এর চেম্বারের ঢোকার আগে ডাইনে-বাঁয়ে-পেছনে দেখে নেয়; ‘নিষিদ্ধ পল্লীতে’ ঢোকার আগে মানুষ যেমন করে!

ফলে মানুষ তার মনের ‘অসুখ’টি নিজের মনেই চেপে রাখে। এতে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে বাড়ে পারিবারিক-সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জটিলতা। শিথিল হয় পারস্পরিক সম্পর্ক। বাড়ে অস্থিরতা। এই অস্থিরতা থেকে জন্ম নেয় উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ মানুষের অন্যান্য ব্যাধি।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নানান ধারা ও উপধারায় বিভক্ত হওয়ার কারণে শিশু-কিশোররা যথাযথ ‘মেন্টাল লিটারেসি’ পায় না; পায় না সাইকোলজিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স। ফলে একজন শিশু যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না। এর ফল হয় নেতিবাচক।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলা বাহুল্য। সম্প্রতি রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, রাজনৈতিক স্লোগান আর পরিভাষায় যে অশ্রাব্য শব্দের ব্যবহার, তা আমাদের হীনমন্যতা ও মূর্খতাকেই প্রকাশ করে। প্রকাশ করে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ‘দগদগে’ রূপ!

তবে ইংরেজিতে একটি কথা আছে— ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’। আমাদের সমাজ, আমাদের পরিবার, আমাদের রাষ্ট্র— দেশের মানুষের ‘মানসিক স্বাস্থ্যে’র দিকে এতদিন যথাযথ নজর দেয়নি বলে এখনো নজর দেওয়া যাবে না, এমনটি তো নয়। একটি ‘পরীক্ষা পাস-ফেলের’ সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এই যে দুজন কিশোরী অবোধের মতো আত্মহনন করল— এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও যদি আমাদের বোধোদয় না হয়, সেটি হবে সত্যিই দুঃখজনক। মনে রাখা প্রয়োজন, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।’ ভালো থাকুক আমাদের নতুন প্রজন্ম। সুস্থ থাকুক আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য।

 

লেখক: প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা

পরীক্ষার ফলসামাজিক স্বাস্থ্যএসএসসি পরীক্ষারাজশাহী
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise