Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
কৃষক গড়েছেন ব্যতিক্রমী কলেজ
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় কলাম

বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কাজে আসেনি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২
বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কাজে আসেনি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

১৯৪৫-৪৬ সালে ভারতবর্ষে যখন প্রায়-বিপ্লবী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, চতুর্দিকে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টি তখন তাতে নেতৃত্ব দিতে পারেনি; কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐক্যের পক্ষে আওয়াজ তুলেছে। ফলে বুর্জোয়ারা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং খোলা পথে এগিয়ে যেতে পেরেছে, সমাজতন্ত্রীদের পেছনে ঠেলে দিয়ে। বুর্জোয়ারা ছিল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে; তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল বড় একটা জায়গা জুড়ে। কমিউনিস্ট পার্টিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, যদিও সুবিধা করতে পারেনি। ১৯৪৭-এ পেয়েছিল তিন আসন, ১৯৫৪-তে চারটি, এরশাদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিল পাঁচটি। ১৯৪৮-এ সশস্ত্র সংগ্রামের ভুল পথ ধরা এবং পরে নির্যাতনের মুখে পড়ে নরম পথ অবলম্বন; রুশ-ভারত বিভাজন, রুশপন্থীদের বুর্জোয়াপ্রীতি— সবকিছুই জাতীয়তাবাদীদের সাহায্য করেছে শক্তিশালী হতে। জাতীয়তাবাদীরা কমিউনিস্টদের জাতশত্রু জ্ঞান করেছে এবং সেভাবেই তাদের কখনো উপেক্ষা, কখনো পীড়ন করেছে। চীনপন্থীদের উগ্রপন্থা গ্রহণও সমাজবিপ্লবী চরিত্রের ছিল না; ছিল পেটি বুর্জোয়া ধরনেরই। মওলানা ভাসানী ছিলেন কমিউনিস্টদের একান্ত বান্ধব, কিন্তু কমিউনিস্টরা তার সঙ্গে থাকতে পারেননি; রুশপন্থীরা বলেছেন তিনি উগ্র, চীনপন্থীরা ভেবেছেন পেটি বুর্জোয়া; ফলে মওলানা ভাসানীকে সঙ্গে ও সামনে রাখলে যে শক্তি সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল, তা কাজে লাগেনি। কমিউনিস্টরা প্রান্তিক অবস্থানেই রয়ে গেছে, ‘বীরত্ব’ যা দেখানোর জাতীয়তাবাদীরাই দেখিয়েছে।

শেখ মুজিবের ছয় দফার শেষ দফাটিতে আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য ‘আধাসামরিক বাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা’র কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আধাসামরিক নয়, পুরো সামরিক বাহিনীই গঠিত হয়েছে; সেই বাহিনীরই একাংশ অবিশ্বাস্য নৃশংসতায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয় এবং তার পরে নিজেদের মধ্যে মতবিভেদের ও ব্যক্তিগত রেষারেষির দরুন পারস্পরিক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে। পাকিস্তান-প্রত্যাগত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খুনোখুনির এক ঘটনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির আসন দখল করে নেন এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জারি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যা ছিল চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

কিন্তু সামরিক-বেসামরিক বুর্জোয়া শাসকরা এক ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন; সেটি হলো বামপন্থীনিধন। অন্য অনেক ব্যাপারেই তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ শুধু নয়, সুকঠিন শত্রুতা দেখা গেছে; কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে তাদের ঐক্য ছিল অভঙ্গুর। যুদ্ধকালীনই মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, যার মুখ্য লক্ষ্য ছিল বামপন্থীদের দমন করা। রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠিত রক্ষীবাহিনীরও প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল বামপন্থীদের দমন করা। কমিউনিস্টদের বিদেশি চর ও নাস্তিক বলে সামাজিকভাবে পীড়ন করার কাজটা শুরু হয়েছে পার্টির যাত্রা শুরুর মুহূর্ত থেকেই এবং সেটি পরেও অব্যাহত থেকেছে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পাশাপাশি সামাজিক অনীহার মোকাবিলা করেই কমিউনিস্ট পার্টিকে এগোতে হয়েছে।

রুশপন্থীরা বলেছেন তিনি উগ্র, চীনপন্থীরা ভেবেছেন পেটি বুর্জোয়া; ফলে মওলানা ভাসানীকে সঙ্গে ও সামনে রাখলে যে শক্তি সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল, তা কাজে লাগেনি। কমিউনিস্টরা প্রান্তিক অবস্থানেই রয়ে গেছে, ‘বীরত্ব’ যা দেখানোর জাতীয়তাবাদীরাই দেখিয়েছে

আর ছিল ভাববাদিতা ও আধ্যাত্মিকতার বন্ধন। ভারতবর্ষ দর্শনচর্চায় বস্তুবাদী যে ধারাটি বিদ্যমান ছিল— চার্বাক যার প্রধান বলে পরিচিত— ব্রাহ্মণ্যবাদীরা সেই ধারাকে ক্ষমতার বলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। বৌদ্ধরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন না, তারা ছিলেন মানবতাবাদী, সাম্যবাদীও বলতেন নিজেদের; কিন্তু বস্তুজগৎ সম্পর্কে তাদের যে খুব বেশি আগ্রহ ছিল তা নয়, তদুপরি তারা ছিলেন ‘অহিংসা’র নীতিতে ও ব্যক্তিগত পরিবর্তনে আস্থাশীল, যার প্রভাবের দরুন ব্রিটিশ ভারতে দলিতদের নেতা বি আর আম্বেদকর হিন্দুত্ববাদীদের ব্রাহ্মণ্যবাদী অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় পরিত্যাগ করেন, তখন তিনি মার্ক্সবাদের দিকে যাননি; বৌদ্ধ ধর্মের দিকে গেছেন, অর্থাৎ ধর্মের মধ্যেই রয়ে গেলেন।

আধুনিক ভারতবর্ষে ভাববাদিতাকে পরিপুষ্ট করার কাজে সর্বাধিক প্রভাবশালী ছিলেন যে দুজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, তারা হচ্ছেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদিও তাদের দুজনের ভেতর অন্য বিষয়ে বিস্তর পার্থক্য ছিল। এক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কটি ছিল মৈত্রীর। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন গান্ধী; তিনি বর্ণপ্রথার নিন্দা করেছেন বটে, তবে তার অবসান চাননি। তিনি অসাম্প্রদায়িক ছিলেন অবশ্যই, কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন— এমনটা বলার উপায় নেই। গান্ধীর ‘আপসকামী’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সুভাষচন্দ্র বসু সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পথে গেছেন, কিন্তু তিনিও আদতে জাতীয়তাবাদীই ছিলেন এবং সমাজতন্ত্রের কথা বললেও তার সমাজতন্ত্র মোটেই মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী ছিল না; ছিল জাতীয়তাবাদী। ‘জাতীয় মুক্তি’র জন্য তিনি নাৎসি জার্মানি ও সাম্রাজ্যবাদী জাপানের সাহায্য প্রার্থনায় দ্বিধা করেননি। একসময়ে তিনি মুসোলিনির প্রতিও অনুরাগ প্রকাশ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সুভাষ বসুকে স্নেহ করতেন, তার বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের তিনি প্রশংসা করেছেন এবং এটা তাৎপর্যহীন নয় যে সাময়িকভাবে হলেও তিনি নিজেও মুসোলিনির প্রাথমিক কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন। সুভাষ বসু খাঁটি বাঙালি ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদেই বিশ্বাস করতেন। রবীন্দ্রনাথ বাঙালিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু তিনিও নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিতে অপছন্দ করতেন না। জওহরলাল নেহরু সুভাষ বসুর যেমন নিকটবর্তী ছিলেন, তেমনি দূরেও সরে গিয়েছিলেন— মূলত গান্ধীর ওপর ভরসার কারণে। তিনি নিজেই বলেছেন যে, তিনি কমিউনিস্ট হয়ে যেতে পারতেন, যদি না চূড়ান্ত পরিচয়ে জাতীয়তাবাদী না হতেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ সেখানকার সমাজব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নতি দেখে খুবই খুশি হয়েছিলেন, কিন্তু সামাজিক মালিকানাকে মোটেই সমর্থনযোগ্য বলে বিবেচেনা করেননি।

বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলনে অসাধারণ মেধাসম্পন্ন মানুষরা ছিলেন। তারা আন্দোলন করেছেন, লিখেছেন, কারাভোগ ও পীড়ন সহ্য করেছেন, তবুও হাল ছাড়েননি। কিন্তু তাদের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি, তেমন একটা প্রসারও ঘটেনি। এর একটা কারণ পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা; দ্বিতীয় কারণ, সেটা খুব বড় কারণ, সাতচল্লিশের দেশভাগ; যার ফলে পার্টিও দ্বিখণ্ডিত হতে বাধ্য হয়, অনেক নেতাকর্মী পূর্ববঙ্গ থেকে চলে যান, পার্টির সদস্য সংখ্যা ১২ হাজার থেকে ২ হাজারে নেমে আসে; রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সামাজিক বিদ্বেষে পার্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর পরে আসে আন্তর্জাতিকভাবে সংশোধনবাদ এবং স্থানীয়ভাবে আপসকামিতা ও সুবিধাবাদ।

মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী সংগ্রামের প্রধান ভরসাগুলোর একটি হলো সংস্কৃতির বুদ্ধিবৃত্তি মানের উচ্চতা। বাংলাদেশের সেটির সহজপ্রাপ্তি ঘটেনি। একটি দৃষ্টান্ত নেওয়া যাক। জাতীয়তাবাদীদের এক ঐতিহাসিক সমাবেশে রুশপন্থী কমিউনিস্ট পার্টির একজন তাত্ত্বিকের পাশেই বসেছিলেন পার্টির অনুসারী একজন মেহনতি মানুষ। জাতীয়তাবাদীদের বক্তৃতাতে মুক্তির কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে শুনে ওই মানুষটি তার নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এই বুর্জোয়ারা কী করে মুক্তি আনবেন? ক্ষমতায় গেলে তো এরাও ওই শোষণই করবেন।’ জবাবে তাত্ত্বিক তাকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ‘এরা দেশি মশা; রক্ত শোষণ করলেও এদেরকে আমরা আটকে রাখতে পারব। শোষিত রক্ত বের করে নিতে পারব। কিন্তু রক্তচোষা বিদেশি মশারা তো উড়ে চলে যাবে, তাদের ধরা যাবে না।’ শুনে মেহনতি মানুষটি কতটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন জানা যায়নি, তবে সব মশাই যে উড়তে জানে, সেই সত্য-মিথ্যা হওয়ার নয়। হয়ে যায়নি। এবং আগে যেমন, পরেও তেমনি ভুক্তভোগী হয়েছেন মেহনতিরাই। বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কোনো কাজে আসেনি।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিপ্লবমশাতত্ত্বকমিউনিস্ট পার্টিমুসলিম লীগ
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise