গাজীপুর সিটিতে মশা নিধনে বরাদ্দ ১০ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুর। শিল্পসমৃদ্ধ ঘনবসতি আর অপরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে গাজীপুরকে চিহ্নিত করা হয়।
রাজধানী ঢাকার অতি সন্নিকটে এই গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে আধুনিক পরিকল্পিত গ্রিন এবং ক্লিন সিটিতে রূপান্তরিত করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
১৩ বছর বয়সী এই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, ড্রেন, গ্যাস, পানি ও বর্জ্যব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। নগরীর অনেক এলাকা এখনো গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। সেখানে অবকাঠামোগত তেমন উন্নয়ন হয়নি। এখনো যত্রতত্র গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ভবন, রাস্তাঘাট, শিল্পকারখানা।
সাবেক টঙ্গী পৌরসভা এবং সাবেক গাজীপুর পৌরসভা— এ দুটিতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও বেশিরভাগ এলাকা জুড়েই পানির সুবিধা পাচ্ছে না নগরবাসী। পুরনো দুই পৌরসভা নিয়ে শহর গঠন করা হলেও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা সিটি করপোরেশনের বাকি এলাকাগুলোয় গড়ে ওঠেনি সেরকম উন্নয়ন কার্যক্রম। নগরীর প্রায় ৫৭টি ওয়ার্ডেই রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও অন্যান্য অবকাঠামোগত তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নির্বাচিত কোনো মেয়রই তার পূর্ণকাল দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। যে কারণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছরই নগর জুড়ে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকে নগরবাসী। বিশেষ করে বর্ষা ও শীতে মৌসুমি মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এই মৌসুমে গাজীপুরে ডেঙ্গু এবং মশাবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে।
মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসীকে মশার হাত থেকে রক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশানিধন বাবদ ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে এই ১০ কোটি টাকার মশার ওষুধ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়েও রয়েছে নগরবাসীর নানা প্রশ্ন।
এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দুটি জোন থেকে আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা বেশি নিয়েছেন। করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জোন দুটি হচ্ছে— জোন ১ ও ৭। আগস্ট মাসে এক নম্বর জোনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ ও ৭ নম্বর জোনে ১৪৮ জন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক আগামীর সময়কে জানালেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার ওষুধের চাহিদা মোতাবেক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মশার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। লার্ভি সাইড স্প্রে এবং ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং এর কবল থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডিজিটাল প্রচার শুরু করা হচ্ছে। এতে নগরবাসী আরও সচেতন হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সুদীপ বসাক আরও জানালেন, সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান জনবল দিয়ে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, একটি আধুনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গ্রিন এবং ক্লিন সিটি গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা সরানোর জন্য আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ময়লা থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার তৈরির একটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।
এ ছাড়া নগরীর রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামগত উন্নয়নের জন্য আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করি নগরবাসী ধীরে ধীরে এগুলোর সুফল পেতে শুরু করবেন।






