উজানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
প্লাবিত হতে পারে সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের সব প্রধান নদ-নদী এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে উজান ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দ্রুত বাড়তে পারে দেশের কয়েকটি নদীর পানি। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাশ এ তথ্য জানান।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনো দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোয় পানি আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে আবারও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সুরমা-কুশিয়ারায় বাড়ছে পানি
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিনও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী একদিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুদিনে বাড়তে পারে।
এ ছাড়াও বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী এক দিন পানি প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর টানা চার দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়ও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচে থাকবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনও এ অবস্থা বজায় থাকতে পারে।
সতর্কসীমার কাছাকাছি তিস্তা
রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ সময় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে তিস্তা নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলের করতোয়া, আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট নদীগুলোও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এসব নদীর পানি আগামী কয়েক দিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
নেত্রকোনায় সোমেশ্বরী সতর্কসীমায়
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, কংস ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়েছে। বিপরীতে ভুগাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে এ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সোমেশ্বরী, কংস, জিঞ্জিরাম ও ভুগাই অববাহিকার নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবন দেখা দিতে পারে।
স্বাভাবিক ঢাকার চারপাশের নদী
বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও টঙ্গী খালের পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং সবগুলোই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে পানি কিছুটা বাড়লেও বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম ও সিলেটে নজরদারি
সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। তবে মুহুরী, ফেনী ও গোমতী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। যদিও কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে স্থানীয়ভাবে পানি বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পশ্চিমাঞ্চলে স্বস্তির পরিস্থিতি
খুলনা অঞ্চলের গড়াই ও মাথাভাঙা নদীসহ রাজশাহী অঞ্চলের আত্রাই, মহানন্দা, করতোয়া ও যমুনেশ্বরী নদীগুলো এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। এসব এলাকায় আগামী কয়েক দিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী কয়েক দিন উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তবে আপাতত দেশের কোনো প্রধান নদীতে বন্যার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। সিলেট-সুনামগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।




