রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম—ফাইল ছবি
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। এ লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মানবিক সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এমএসএফের আন্তর্জাতিক সভাপতি ড. জাভিদ আবদেলমোনাইমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়।
এমএসএফের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় তাদের চলমান মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে আছে বহির্বিভাগ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, পানি-স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যক্রম, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা।
প্রতিনিধিদল জানায়, এসব সেবার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এমএসএফের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবিক এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে ধরে রাখতে এমএসএফের অব্যাহত সহযোগিতাও চান।
এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার।
সম্প্রতি তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে স্বীকৃতি দেওয়া এই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনবাসী হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছে তারা। এ ছাড়া আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে নেপিদো।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর পর থেকে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিবিরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
এদিকে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়।
মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশ প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি।









