দাতাদের কাছে বাংলাদেশের নতুন ছক : ঋণ কমিয়ে বিনিয়োগের জোর

ছবি: রয়টার্স
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের চাপ নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে নিজস্ব কৌশল ও সংস্কারের রূপরেখা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সরকার বৈশ্বিক ঋণনিভর্রতা থেকে বেরিয়ে সরাসরি বিনিয়োগমুখী হবে। করের হার না বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান রক্ষার এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ব্যাংকক কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সম্মেলনে ইউএস ট্রেজারিসহ বহুপাক্ষিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে এসব সংস্কারের কথা তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রথাগত সার্বভৌম ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট ও যৌথ প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্য আমদানির বিশাল প্রেক্ষাপটে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মার্কিন অনুদান ও বিশেষ সহযোগিতার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর একই বৈঠক থেকে বেরিয়ে জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি কোনো কিছু লুকিয়ে না রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সাথে মোকাবিলা করায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারের সংস্কার কৌশলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে দর-কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণের দায়িত্ব আলাদা করার মাধ্যমে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কার্যকর নির্বাহী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সময়সীমাভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমুখী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষদের সুরক্ষিত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং বেসরকারি খাতে সহজ শর্তে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।



