জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আজ রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করতে গিয়ে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে সংসদে হট্টগোল শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংসদ সদস্যদের নিজেদের মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বললেন, ‘আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। নিজেদের ডিসেন্সি ও ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারলে দেশের মানুষের কাছে লজ্জিত হতে হবে। এই সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করার জায়গা নয়।’
সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, তার বক্তব্যের কোনো অংশে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলছেন, নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে ‘হীন মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন।
পরে পানি সম্পদমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। তিনি বললেন, কোনো বক্তব্য একবার এক্সপাঞ্জ করার সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে আর বিতর্ক বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে না।
এরপর চিফ হুইপ মনিরুল হক চৌধুরীকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বললেন, প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। পরে তিনি সংসদ সদস্যদের চলমান বিতর্কের ইতি টেনে মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।


