১৫৪২ কোটির প্রকল্পে প্রায় ২ কোটির গাড়ি কেনায় প্রধানমন্ত্রীর বাধা
- প্রস্তাব বাতিল
- অর্থ সাশ্রয়ে জোর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: পিএমও
বহু সাধ করে একটিমাত্র জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাব ছিল ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পে। এটির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ সাধলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে থেকে জানা গেছে এই তথ্য।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই গাড়ি কিনতে নিষেধ করা হয়েছে।
একনেক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানান, ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় গাড়ি কেনার প্রস্তাবটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অর্থ সাশ্রয়ের স্বার্থে গাড়ির এই প্রস্তাব বাদ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, মাত্র একটি গাড়ি রাখা যেতে পারে। কিন্তু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একটি গাড়িরও অনুমতি দেওয়া ঠিক নয়। এতে একটি (খারাপ) উদাহরণ তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাতিল করা হয় গাড়ি কেনার সেই প্রস্তাব।
এছাড়া একনেক সভায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এটির জন্য নেওয়া ঋণ ও শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। জবাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ঋণের সুদের হার ২ থেকে ৩ শতাংশ হবে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি হার।
এদিন একনেক সভায় মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে যোগ হবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন তিনটি এবং সংশোধিত দুটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো মূলত দেশের বিভিন্ন খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পটি দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামোগত সহায়তা জোরদারে ভুমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়। একই সঙ্গে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রক্ষায় একটি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বন্যা ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে '১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন' প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।





