হাসপাতালের রূপ পাচ্ছে মা-শিশু কল্যাণকেন্দ্র
- অভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবকাঠামোয় আনার উদ্যোগ
- প্রথম পর্যায় ২৯ জেলার কেন্দ্র উন্নীত হবে ৩০ শয্যায়
- ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে উঠবে বুধবার
- সরকারের অঙ্গীকার পূরণের কাজ করা হচ্ছে : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
অন্তঃসত্ত্বা, প্রসূতি কিংবা নবজাতকদের শারীরিক সমস্যায় সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা মা-শিশু কল্যাণকেন্দ্র। কিন্তু দেশের মা-শিশু কল্যাণকেন্দ্রের বেশিরভাগের অবস্থাই বেহাল। নানা সংকটে ধুঁকতে থাকা এসব কেন্দ্রে এবার প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৯ জেলার মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রকে ৩০ শয্যার ‘হাসপাতালে’ উন্নীত করতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জেলাগুলোর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ৫ থেকে ১০ লাখ মা ও শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাবে বছরে।
আগামীকাল বুধবার (১৩ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৮ সালের জুন।
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে মা-শিশু কল্যাণকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৬টি। অবশ্য পুরোপুরি সেবা দেওয়ার সক্ষমতা আছে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা হাতেগোনা। বেশিরভাগ কেন্দ্রই ৫০-৬০ বছরের জরাজীর্ণ ভবন, নেই জরুরি যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। শয্যা সংখ্যাও নগণ্য । কোনোটিতে চিকিৎসক থাকলেও নেই নার্স বা স্বাস্থ্য সহকারী। আবার কোনোটিতে যন্ত্রপাতি থাকলেও তা পরিচালানার জন্য নেই অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকবল।
চলমান এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলোকে অভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবকাঠামোতে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের। এতে একদিকে যেমন মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং নবজাতক মৃত্যুর হার কমবে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে প্রজনন সেবা কার্যক্রমেও। পাশাপাশি প্রস্তাবিত প্রকল্পের আধুনিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও নতুন জনবল ভূমিকা রাখবে পুরো স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রকল্পটিকে নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আগামীর সময়ের কাছে তুলে ধরেছেন তার মতামত। জোনায়েদ সাকির ভাষ্য, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং নেওয়া হবে। কেননা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাদের সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রকল্প প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশ গত ৩০ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে ব্যাপক সফলতা অর্জন করলেও প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষমতার প্রয়োজন। বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে বহুমুখী সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
প্রস্তাবের খসড়ায় আরও উল্লেখ আছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে জেলা পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই কার্যক্রম এখন নানা সংকটে জর্জরিত।
প্রকল্প প্রস্তাবনার তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলা শহরের মধ্যে ৭টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ভিন্ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলায় ২০ শয্যার হাসাপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে। এ কারণে ৮টি জেলাকে রাখা হয়েছে প্রকল্পের বাইরে। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে যেসব জেলার মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের ০ দশমিক ৪০ একর বা তার বেশি পরিমাণ জমি রয়েছে সেখানে এবং অধিকতর জরুরি বিবেচনায় ২৯ জেলায় হবে প্রথম ফেজের কাজ। এর মধ্যে ২৮টি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র পুনর্নির্মাণ এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে একটি ভবনের।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, পুনর্নির্মাণ করা ভবনগুলো হবে ফাউন্ডেশনসহ নয়তলা। প্রতিটি ভবনে থাকবে অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন, অভ্যন্তরীণ পয়োনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এ ছাড়া হাসপাতাল ভবনের জন্য সব ধরনের কম্পিউটার (এক্সেসরিজসহ) মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, হাসপাতাল ভবনের জন্য আসবাবপত্র, জনবল নিয়োগ, ভূমি উন্নয়ন, আরবরিকালচার ও ল্যান্ড স্ক্যাপিং করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় যেসব জেলা
যেসব জেলায় প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হলো— মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার ও লক্ষ্মীপুর। আরও আছে রাঙামাটি, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলা।




