আগামীর সময়

আ. লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি: জরিপ

আ. লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি: জরিপ

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৪৮ শতাংশ বিএনপিকে পছন্দ করছে। আর ২৯ শতাংশ জামায়াত, ৬.৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে পছন্দ করছেন। ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ একসঙ্গে এই জরিপ করেছে। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে দেশের ১৮০টি আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কোঅর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

জরিপ অনুযায়ী, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত নন। ভোটারদের ৩০.২ শতাংশ প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে চান এবং ৩৩.২ শতাংশ দল ও প্রার্থী উভয়কেই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভোটাররা এখন ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ৬৭.৩ শতাংশ ভোটারের কাছে আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু ‘দুর্নীতি’। এ ছাড়া ৬৩ শতাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ৫৫.৪ শতাংশ উন্নয়ন এবং ৫১ শতাংশ নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিপরীতে ধর্মীয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।

রাজনৈতিক পছন্দের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে পছন্দ করছেন। ২৯ শতাংশ জামায়াত, ৬.৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে পছন্দ করছেন। ২.৪ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী (৩৭.৪ শতাংশ)। এরপর রয়েছে বিএনপি (২৭ শতাংশ) ও এনসিপি (১৭ শতাংশ)। ১৮.৬ শতাংশ তরুণ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা করছেন। বিএনপির ৪৯ শতাংশ ও জামায়াতের ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া ব্যালট ছিনতাই ও সরকারি পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শেয়ার করুন: