জাতির উদ্দেশে ভাষণের রীতি কবে শুরু হয়?

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর আগে গতকাল রবিবার এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ভাষণ দেন।
চলতি বছরে জাতির উদ্দেশে ভাষণের জন্য নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিলেও মাত্র ৮টি দল আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণের চল শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সাল থেকে। তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সরকারের পতনের পর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল, যাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা।
সেই সরকারের সময় প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এরপর ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুই নেত্রীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা এই সুবিধা পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত ছিল খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ঘিরে। তাদের মধ্যে আশি বছর বয়সে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন গত ৩০ ডিসেম্বর। সে পটভূমিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন তারেক রহমান।
আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষেধাজ্ঞার কারণে আওয়ামী লীগ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা এবার নির্বাচনী ভাষণ দিচ্ছেন বেতার-টেলিভিশনে।

