বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে দেব না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন
হঠাৎ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ বুধবার কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ঘুরে দেখেছেন পুরুষ, নারী, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ এবং রান্নাঘরসহ বিভিন্ন ইউনিট। আশ্বস্ত করলেন, প্রত্যেকের জন্য নিশ্চিত করা হবে চিকিৎসা।
এরপর কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। জানালেন স্বাস্থ্যখাতে গত ১৭ বছরের পরিস্থিতি নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ। মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘গত ১৭ বছরে এই হাসপাতালের উন্নয়নের কোনো কাজ হয়নি। কোনো জবাবদিহি ছিল না। যারা ক্ষমতায় ছিল, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না তারা। জনগণের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি বলেই তারা হাসপাতালের দিকে নজর দেয়নি।’
এই হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিনভাবে বার্তা দিয়েছেন আমাদেরকে। রোগীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন করব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এসে এগুলো উদ্বোধন করব আমরা।’
মন্ত্রী জানালেন, হাসপাতালের বেশ কিছু সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে আসবাবপত্রের জন্য শেষ হয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে নির্দেশ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘সারা দেশে ২০টি অত্যাধুনিক হাসপাতাল করতে যাচ্ছি আমরা। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ১ লাখ কর্মীর সহায়তায় ঘরে ঘরে গিয়ে হেলথ স্ক্রিনিং, ডায়াবেটিস, প্রেশার এবং নারীদের ক্যান্সার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মরতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।’
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক বিন-হাসান, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনিয়ম দেখলে নিচ্ছেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।
গতকালই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হাজির হন তিনি। সেখানে ‘অমানবিক পরিস্থিতি’ দেখার কথা জানান সাংবাদিকদের। ব্যর্থতার দায়ে ক্লোজ করা হয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে।





