রোগের শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ
- অর্থায়নের অভাবে বাড়ছে প্রকোপ

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শীর্ষ ১০টি রোগের মধ্যে এক নম্বরে অবস্থান করছে উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’-এ উঠে এসেছে এ তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই অর্থায়নের অভাবে সবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়ছে রোগটির প্রকোপ।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। এর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জন হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ৫২ শতাংশরই মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যান, যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
বক্তারা বলেছেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ প্রদানের উদ্যোগ শুরু হলেও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গাড়ি নিয়ে বাড়াবাড়ি
১৩ মে ২০২৬
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হক বলছিলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।’
সভায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খোরশেদ আলম বলেছেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এই কার্যক্রম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছিলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হলে উচ্চ রক্তচাপ ও এর জটিলতা এবং মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’ ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা বলেছেন, ‘গবেষণাভিত্তিক প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’
সভায় গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেছেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরি এবং নীতি-নির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেছেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নকে একটি কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য লাভজনক।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. গীতা রানী দেবী, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন্নাহার নাহিদ এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস।
বক্তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, ওষুধের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো, এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত মৃত্যু ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ১৭ মে উদযাপিত হয় বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘কন্ট্রোলিং হাইপারটেনশন টুগেদার’।






